ফাইল ছবি

সুভাষ বৈদ্য,কলকাতা: জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা ও ৩৫এ বাতিল করা হয়েছে৷ পাকিস্তান যে এটাকে মেনে নেবে না, ভারতের কাছে তা পরিস্কার ছিল৷ কার্যত হল তাই, স্পেশাল স্ট্যাটাস অবলুপ্তি ঘোষণার পরই পাকিস্তান জানিয়ে দিল এই বেআইনি কাজ ঠেকাতে তারা সব রকম চেষ্টা করবে৷ কি সেই চেষ্টা, বলছেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা৷

আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অনিন্দজ্যোতি মজুমদার জানান, ‘এই ঘটনার পর পাকিস্তান চুপ করে বসে থাকবে না৷ তবে প্রথমেই সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটবে না পাকিস্তান৷ তারা ভারতের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের যেতে পারে,ভারতের উপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে৷’

এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারত যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মের পরিপন্থী৷ অন্যদিকে ইতিমধ্যেই ভারত রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকাকে বিষয়টি জানিয়েছে৷

তিনি আরও জানান, ‘আন্তর্জাতিক দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সীমান্তে আরও সমস্যা তৈরি করতে পারে পাকিস্তান৷ অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে৷ তাছাড়া জম্মু-কাশ্মীরের আন্দোলনকারীদের মদত দিতে পারে পাকিস্তান৷’ যাতে অভ্যন্তরীণ গণ্ডগোল তীব্র করা যায়৷ যদিও পাকিস্তান ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, কাশ্মীরের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং নৈতিক বিকাশের জন্য আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।

আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে পাক সংসদের যৌথ অধিবেশনে আলোচনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে পাকিস্তান। ভারতের ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা বাতিলের প্রক্রিয়া কিভাবে ঠেকানো যায় তা নিয়ে এদিন আলোচনা হতে পারে৷ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায় কিনা,সেই দিকটি নিয়েও আলোচনা করতে পারে পাকিস্তান৷

গতকাল অর্থাৎ সোমবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়া হল৷ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জম্মু-কাশ্মীরকে পুনর্গঠিত করে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হল। একটি জম্মু কাশ্মীর অন্যটি লাদাখ।