লন্ডন: প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেও সরফরাজদের মধ্যে ১৯৯২-এর ছায়া দেখছিল পাক সমর্খকরা৷ লিগে প্রথম ছ’ম্যাচ পর্যন্ত ইমরানের খানে দলের মতো এগোচ্ছিল এবারের পাকিস্তান৷ কিন্তু সময় যত এগিয়েছে ততই ফিকে হয়েছে সরফরাজদের বিশ্বকাপ ভাগ্য৷ লিগের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৯ উইকেটে ৩১৫ রান তোলে পাকিস্তান৷ অর্থাৎ সেমিফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে ৭ বা তার কম ওভারের মধ্যে অল-আউট করতে হবে পাক বোলারদের৷ না-হলে এই ম্যাচ জিতেও সেমিফাইনালে যাওয়া হবে না সরফরাজদের৷ কারণ ১১ পয়েন্ট পেলেও রান-রেটে চতুর্থ দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চলে যাবে নিউজিল্যান্ড৷

শুক্রবার ক্রিকেট মক্কায় লিগের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নামার আগেই সেমিফাইনালের দৌড় থেকে কার্যত ছিটকে গিয়েছিল পাকিস্তান৷ কিন্তু খাতায় কমলে একটা ক্ষীণ আশা ছিল সরফরাজদের৷ কারণ মেন ইন গ্রিনের ভাগ্য ঝুলে ছিল নেট রানরেটের জটিল অঙ্কের উপরে৷ তবে তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ম্যাচের টস৷ কারণ ম্যাচের শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে টিকে থাকতে সবার আগে পাকিস্তানের দরকার টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেওয়া৷ টস হারলে (প্রথমে ব্যাটিং না করলে) সরফরাজদের বিশ্বকাপ অভিযান ম্যাচ শুরুর আগেই শেষ হয়ে যেত৷ কারণ রান তাড়া করে ইনিংসের প্রথম ওভারে ম্যাচ জিতলেও নেট রানরেটে নিউজিল্যান্ডকে টপকানো সম্ভব ছিল না পাকিস্তানের৷

এই অবস্থায় লর্ডসে মহা গুরুত্বপূর্ণ টস জিতে লাইফলাইন পায় পাকিস্তান৷ বলাবাহুল্য টস জিতে পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন৷পাকিস্তানের সামনে ব্যাটিং ছাড়া উপায় ছিল না৷ এই অবস্থায় প্রেজেন্টার মাইক আর্থারটন যখন সরফরাজের কাছে জানতে চান তিনি টস জিতে কী করতে ইচ্ছুক, তখন হেসে ফেলেন সরফরাজও৷ পাক সমর্থকরা আপাতত স্বস্তিন নিঃশ্বাস ফেলেন৷

সরফরাজ বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারটা অত্যন্ত হতাশার৷ না হলে বাকি টুর্নামেন্টে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি৷ ক্ষীণ একটা সুযোগ রয়েছে৷ তার জন্য আমার প্রচুর রান করতে হবে৷ বড় ব্যবধানে জিততে হবে৷ সেমিফাইনালের দরজা খুলক না খুলুক, আমরা জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চাই৷

টস জিতলেও শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের৷ মন্থর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অষ্টম ওভারেই ফকর জামানের উইকেট হারায় পাকিস্তান৷ দ্বিতীয় উইকেটে অবশ্য ইমাম-উল হক ও বাবর আজমের ১৫৭ রানে পার্টনারশিপে ম্যাচে ফেরে ‘মেন ইন গ্রিন’৷ অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয় বাবরের৷ ব্যক্তিগত ৯৬ রানে ড্রেসিংরুমে ফেরেন পাকিস্তানের নম্বর তিন ব্যাটসম্যান৷ এর পর তৃতীয় উইকেটে মহম্মদ হাফিজের সঙ্গে ৬৬ রান যোগ করেন ইমাম৷

সেঞ্চুরি করে হিট-উইকেট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন ইমাম৷ চলতি বিশ্বকাপে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে হিট-উইকেট হন পাক ওপেনার৷ ১০০ বলে ১০০ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হন ইমাম৷ এরপর মিডল-অর্ডার ধস নামে৷ ফলে কোনও বড় পার্টনারশিপ হয়নি৷ হাফিজ ব্যক্তিগত ২৭ এবং ইমাদ ওয়াসিম ২৬ বলে ৪৩ রানের ফলে তিনশোর গণ্ডি টপকায় পাকিস্তান৷ শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ৩১৫ রান তোলে সরফরাজ অ্যান্ড কোং৷ ৭৫ রান খরচ করে পাঁচটি উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর৷ তিনটি উইকেট নেন সইফুদ্দিন৷