নয়াদিল্লি: ভারতের প্রাক্তন নৌসেনা আধিকারিক কুলভূষণ যাদবের ক্ষেত্রে শর্তহীন কনসুলার অ্যাকসেসের প্রস্তাব খারিজ করে দিল পাকিস্তান৷ কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের জেরেই পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে৷

আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে এই ইস্যুতে রীতিমত ভৎর্সিত হতে হয় পাকিস্তানকে৷ কুলভূষণ যাদবকে দীর্ঘদিন ধরে সেনা জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে, তাও আবার পাকিস্তানের কোনও এক অজ্ঞাত জায়গায় রাখা হয়েছিল তাঁকে বলে আন্তর্জাতিক আদালতে জানিয়ে ছিল ভারত৷

কুলভূষণ যাদবের ক্ষেত্রে দ্রুত কনসুলার অ্যাকসেস চেয়ে পাকিস্তানের কাছে আবেদন করেছিল ভারত৷ নয়াদিল্লির তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিক ইসলামাবাদ৷ সেই মর্মে আন্তর্জাতিক আদালতও পাকিস্তানকে কনসুলার অ্যাকসেস দেওয়ার নির্দেশ দেয়৷ নির্দেশ মেনে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ইসলামাবাদ৷

আরও পড়ুন : পাকিস্তানের মাটিতে গ্রেফতার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে

কুলভূষণের কনসুলারের অ্যাকসেসে ছাড় দেয় পাকিস্তান৷ তবে বলা হয় পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী এই অ্যাকসেস দেওয়া হবে৷ তবে সেই শর্তে রাজি ছিল না নয়াদিল্লি৷ ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয় শর্তহীন কনসুলার অ্যাকসেস চায় তারা৷ সেই প্রস্তাবই বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিল পাকিস্তান৷ হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী এই তথ্য জানা গিয়েছে৷ ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কুলভূষণ ইস্যুতে কনসুলার অ্যাকসেস সংক্রান্ত আলোচনা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হল৷

এদিন পাকিস্তানের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় কাশ্মীর থেকে স্পেশাল স্টেটাস তুলে নেওয়ার পরই এইসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে৷ ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথাও উল্লেখ করেছে পাকিস্তান। ভারতে কোনও পাক রাষ্ট্রদূত পাঠানো হবে না, পাকিস্তান থেকেও ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন : সীমান্তে ওপারেই থেমে গেল ‘সমঝোতা’, ফিরিয়ে আনল ভারত

বুধবার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাকিস্তানে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এরপরই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালেই এদিন সকালেই পাকিস্তানের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে সমঝোতা এক্সপ্রেস আর চালাবে না পাকিস্তান। তবে ভারতকে এবিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। পরে বলা হয় যে পাকিস্তানের চালক ভারতে প্রবেশ করতে চাইছেন না। ভারত যেন লোক পঠিয়ে ট্রেনটিকে বাকি পথ নিয়ে আসে। এরপরই ভারত থেকে চালক যায়। গিয়ে নিয়ে আসে ট্রেনটি। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে বলেই আশংকা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা৷