ইসলামাবাদ : দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে এখনও। সেদিনের কথা কোনওদিনই ভুলতে পারবেন না মহম্মদ জুবেইর। পাকিস্তানের বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা যাত্রী। তিনি বলছেন খুব মসৃণ ভাবে উড়ান শুরু করেছিল পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের বিমান এ-৩২০। Flight 8303 বিমানটি লাহোর থেকে করাচির দিকে উড়ে যাচ্ছিল। করাচিতে অবতরণ করার ঠিক আগেই ভেঙে পড়ে সেটি।

দুঃস্বপ্নের বর্ণনা দিতে গিয়ে জুবেইর বলেন, ভেঙে পড়ার আগে তিনবার যাত্রী সমেত খুব জোরে ঝাঁকুনি খায় বিমানটি। তাঁর আসন সংখ্যা ছিল ৮এফ। পাইলট অবতরণের ঘোষণাও করেন। সিটবেল্টও বেঁধে ফেলেছিলেন সব যাত্রী। কিন্তু অবতরণের আগের মুহুর্তেই তিনবার ঝাঁকুনি খায় ওই বিমান।

তখনও গোটা ব্যাপারটা কেউ বুঝে উঠতে পারেননি। অবতরণের পর আবার আকাশে ওড়ে বিমান। প্রায় ১০-১৫ মিনিট পাক খায় সেটি। ফের অবতরণের চেষ্টা চালানো হয়। এরপর অবতরণের সময় আর শেষ রক্ষা হয়নি। বিমানটি বিকট আওয়াজ করে ভেঙে পড়ে। অবতরণের সময় বিমানটি খুব জোরে কাঁপছিল বলে জানিয়েছেন ওই যাত্রী।

তখনই জ্ঞান হারান তিনি। যখন তাঁর জ্ঞান ফেরে, চারিদিকে শুধু ধোঁয়া দেখতে পেয়েছিলেন তিনি বলে জানাচ্ছেন ওই যাত্রী। করাচি হাসপাতালে আপাতত অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসা চলছে তাঁর। শুক্রবার ৯৯ জন যাত্রীকে নিয়ে ভেঙে পড়ে পাকিস্তান এয়ারলাইনসের একটি বিমান।

শনিবার সকালে পাক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত্যু হয় অন্তত ৯৭ জনের। বিমানে থাকা মাত্র ২ জন বেঁচে যান। তাঁরা দু’জনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া যে এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়েছে, সেখানকার অন্তত ১৯ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বলেও জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা।

 

শাকিল আহমেদ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান যে ওই বিমান প্রথমে মোবাইল টাওয়ারে ধাক্কা মারে, তারপর বাড়ির উপর ভেঙে পড়ে। সিন্ধ প্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর জানান, দু’জনকে জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একজনের নাম জুবের ও অপরজন হলেন জাফর মাসুদ যিনি পাকিস্তানের ব্যাংক অফ পঞ্জাবের প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার পাকিস্তানের জিন্না ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে ভেঙে পড়ে করাচিগামী এই বিমান।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব