নয়াদিল্লি: ‘ডেসার্ট লোকাস্টস’-এর নতুন প্রজনন ক্ষেত্র পাকিস্তান, সেখান থেকেই সংলগ্ন এলাকা দিয়ে রাজস্থানে ঢুকছে পঙ্গপালের দল, এমনটাই জানিয়েছেন কৃষিকাজ বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর বিআর কাডওয়া।

সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া তথ্যে তিনি জানিয়েছেন, “গত একমাস থেকে সর্বনাশী পঙ্গপালের দল দু-তিনদিন অন্তর সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পাকিস্তান থেকে রাজস্থানে ঢুকছে। পাকিস্তান পঙ্গপালের নতুন প্রজনন ভূমি তাই বারবার পঙ্গপালের হামলা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি জয়পুরে চারটি নতুন ঝাঁকে পঙ্গপালরা প্রবেশ করেছে”।

তিনি আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি ভাগ্যের যে রবি শস্য চাষ শেষ হয়েছে এবং খারিফ শস্য রোপণ শুরু হয়নি, হবে।

২.৩ কেজি শষ্য একটি পঙ্গপাল প্রতিদিন শেষ করতে পারে। ফলে এর পরিণতি কি হতে পারে, তা রীতিমত চিন্তায় ফেলছে। ৪০ মিলিয়ন পঙ্গপাল ৩৫ হাজার মানুষের খাবার শেষ করতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা গবেষণায় দেখেছেন, আফ্রিকা ছাড়াও বালুচিস্তান, ইরান এবং পাকিস্তান থেকেও ভারতে প্রবেশ করছে পঙ্গপালের দল।

এপ্রিল মাসে পাকিস্তান থেকে রাজস্থানে প্রবেশ করেছে পঙ্গপালের দল তারপরেই সেখান থেকে দেশের পশ্চিমের একাধিক জায়গায় তা ছড়িয়ে গিয়েছে। বর্তমানে তা রাজস্থান, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত বলেই জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রকের তরফে।

একটি পরিণত পঙ্গপালের ঝাঁক একদিনে হাওয়ার সঙ্গে ১৫০ কিমি অবধি উড়তে পারে। সতেজ খাবার থেকে নিজের ওজনের খাবার প্রতিদিন খেতে পারে একটি পরিণত পতঙ্গ। এক বর্গ কিলোমিটারে একঝাঁক পতঙ্গ ৩৫ হাজার মানুষের একদিনের খাবার খেয়ে নিতে পারে।

পঙ্গপালের ঝাঁক সব সবুজ সবজি, পাতা, ফুল, কান্ড, ফল, বীজ এবং শস্যের মধ্যে মিলেট, চাল, মেইজ, আখ, বার্লি, তুলো, ফলের গাছ, খেজুর, ঘাস, পাইন, কলা- এই জাতীয় নানা খাবার উদরস্থ করতে পারে।

তবে পঙ্গপালের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এমন যে তাঁরা একা এবং দলগতভাবে আলাদারকম। তাঁরা যেমন ঝাঁকে ঝাঁকে হামলা চালাতে পারে তেমনই একা একাও ততটাই সক্ষম। তবে পঙ্গপালের ঝাঁক শতশত বর্গকিলোমিটারে ঘনভাবে এবং এক বর্গ কিলোমিটারে ৮০ মিলিয়ন অবধি পরিণত পঙ্গপাল একসঙ্গে থাকতে পারে।

আরও জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানে প্রথম পঙ্গপালের আক্রমণ দেখা গিয়েছিল। সেই সময় সিন্ধু, দক্ষিণ পাঞ্জাব এবং খাইবার পাখতুনখোয়াতে প্রায় ৯০০০,০০০হেক্টর জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল এই পতঙ্গদের উপদ্রব। যার ফলে লক্ষাধিক টাকার ফসল এবং প্রচুর গাছপালার ক্ষতি হয়েছিল তখন। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রূয়ারি মাসে পঙ্গপালের তান্ডবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প