নয়াদিল্লি: ভয় পাচ্ছে পাকিস্তান৷ বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের পর থেকেই ভারতীয় নিয়ন্ত্রণরেখা পার করার সাহস দেখায়নি ইসলামাবাদ৷ এমনই দাবি ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান বিএস ধানোয়ার৷ সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর দাবি পাকিস্তান যতই নিজের আকাশপথ ভারতের জন্য বন্ধ করে রাখুক, তাতে বিশেষ কিছু প্রভাব পড়ে না নয়াদিল্লির৷

এয়ার চিফ মার্শাল এদিন বলেন পাকিস্তানের সঙ্গে দুরত্ব বজায় রাখলেও, অসামরিক বিমান চলাচলে ভারতের তরফে কোনও প্রভাব পড়েনি৷ এদিন বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের কথা উল্লেখ করেন ধানোয়া৷ তিনি বলেন, ভারতীয় বায়ুসেনা নিজেদের গৌরব বজায় রেখেছে৷ বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের পর এতটাই ভয় পেয়েছে পাকিস্তান, যে একটি পাক জেটও তারপর থেকে নিয়ন্ত্রণরেখা পার করার সাহস দেখায়নি৷

ভারতীয় বায়ুসেনা যে উদ্দেশ্য নিয়ে বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক করেছিল, সেই উদ্দ্যেশ্য সফল হয়ে বলে এদিন জানান ধানোয়া৷ তিনি বলেন নয়াদিল্লি নিজের বায়ুসেনার শক্তি প্রদর্শন করতে সফল হয়েছে৷ প্রতিবেশি দেশ বুঝেছে ভারতীয় বায়ুসেনা কোন ধাতুতে গড়া৷ কারণ তারপর থেকে পাক সেনা অনেকবারই সেনা ছাউনিতে আঘাত করতে চেয়েছে, যার একটাও সফল হয়নি৷

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মাটিতে এয়ারস্ট্রাইক করে জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে এসেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই ঘটনার পর প্রায় চার মাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও ভারতের জন্য পাকিস্তানের এয়ারস্পেস খোলা হয়নি। আসলে একটাই কারণ। আবার যদি বালাকোটের মত কোনও হামলা হয়! এমনটাই ভয় পাচ্ছে পাকিস্তান। আর সেইজন্যই আকাশপথ এখনও ভারতীয় বিমানের জন্য খুলে দিচ্ছে না ইসলামাবাদ। সূত্রের খবর, পাকিস্তান চাইছে যে ভারত প্রতিশ্রুতি দিক যে আর কোনও বালাকোটের মত ঘটনা ঘটানো হবে না। তবেই এয়ারস্পেস ভারতের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’য় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান চাইছে যে আর যাতে বালাকোটের মত হামলা না হয় সেই আশ্বাস দিক ভারত। তবেই খুলে দেওয়া হবে এয়ারস্পেস। পুলওয়ামার হামলার পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক করে ভারত। পাকিস্তানের আকাশে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটিতে বোমা ফেলে চলে আসে। আর এরপর থেকেই এয়ারস্পেস বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইমরান খানের সরকার। এরপর ২৭ মার্চ পাকিস্তান তাদের এয়ারস্পেস খুলে দেয়। কিন্তু ভারতের বিমান প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এখনও পর্যন্ত সেই নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা ২৮ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৫ মে-র পর আকাশ সীমায় লাগানো নিষেধাজ্ঞা তিনবার বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে, সরকার আগামী ২৮ জুন এই ইস্যু নিয়ে সমীক্ষা করবে আর তাঁদের বেশি তথ্য দেওয়ার পিছনে নিষেধাজ্ঞা জারি আছে।