টনটন: ভারতের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া হারলেও ওপেন করতে নেমে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার৷ যদিও তাঁর স্ট্রাইক রেট পরিচিত ওয়ার্নার সুলভ ছিল না৷ ৫০ রানে পৌঁছতে তিনি খরচ করেছিলেন ৭৭টি বল৷ মেরেছিলেন মাত্র ৫টি চার৷ শেষমেশ ৮৪ বলে ৫৬ রানের সতর্ক ইনিংস খেলে আউট হন ওয়ার্নার৷ অর্থাৎ ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ৬৬.৬৬৷

অস্ট্রেলিয়ার হারের অন্যতম কারণ হিসাবে বর্ণনা করা হচ্ছিল ওয়ার্নারের মন্থর ব্যাটিংকে৷ অজি সমর্থকরাই প্রশ্ন তোলে যে, ভারতের ঝুলিয়ে দেওয়া সাড়ে তিনশো রান তাড়া করতে নেমে ওয়ার্নারের এমন এমন মন্থর ব্যাটিং যথপোযুক্ত কিনা৷ অধিনায়ক-সহ টিম ম্যানেজমেন্টকে বিতর্কে জল ঢালতে সাফাইও দিতে হয়েছিল৷

যাঁরা প্রশ্ন তুলেছিলেন ওয়ার্নারের দক্ষতা নিয়ে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরের ম্যাচে ব্যাটেই তাঁদের জবাব দিলেন ডেভিড৷ টনটনে দুরন্ত শতরান করে ওয়ার্নারই অস্ট্রেলিয়াকে তিনশো রানের গণ্ডি পার করাতে মুখ্য ভূমিকা নিলেন৷ ওয়ার্নারকে যথাযোগ্য সঙ্গত করেন এপর ওপেনার তথা দলনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ৷ অনবদ্য হাফসেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন ফিঞ্চ৷

মূলত ওয়ার্নার ও ফিঞ্চের ব্যাটে ভর করেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রানের বড়সড় ইনিংস গড়ে অস্ট্রেলিয়া৷ যদিও একসময় অজিদের সাড়ে তিনশো রান টপকে যাওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে মনে হচ্ছিল৷ ওপেনিং জুটির গড়ে দেওয়া শক্ত মঞ্চটাকে যথাযথ ব্যবহার করতে ব্যর্থ হন অস্ট্রেলিয়ার বাকি ব্যাটসম্যানরা৷

এক্ষেত্রে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান নির্ভরযোগ্য পেসার মহম্মদ আমের৷ তিনি একাই পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামান৷ নবাগত শাহীন আফ্রিদি তুলনায় খরুচে প্রমাণিত হলেও তুলে নিয়েছেন দু’টি মূল্যবান উইকেট৷

ওপেনিং জুটিতে ১৪৬ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়া৷ স্লিপে অসিফ আলির হাত থেকে একবার জীবন দান পেয়ে অ্যারন ফিঞ্চ ৮২ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন৷ ৮৪ বলের ইনিংসে তিনি ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন৷ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শেষ ছ’টি ওয়ান ডে ম্যাচে ফিঞ্চের ব্যক্তিগত সংগ্রহ দাঁড়ায় যথাক্রমে ১১৬, অপরাজিত ১৫৩, ৯০, ৩৯, ৫৩ ও ৮২৷ ফিঞ্চকে আউট করেন মহম্মদ আমের৷

স্টিভ স্মিথ ১৩ বলে ১০ রান করে মহম্মদ হাফিজের শিকার হন৷ ব্যাটিং অর্ডারে প্রোমোশন পেয়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ১০ বলে ২০ রান করে শাহীন আফ্রিদির বলে বোল্ড হন৷ ইতিমধ্যে ওয়ার্নার ওয়ান ডে কেরিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন৷ ১১টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১১১ বলে ১০৭ রান করে আফ্রিদির দ্বিতীয় শিকার হন তিনি৷

আমের একে একে তুলে নেন খোওয়াজা (১৮), শন মার্শ (২৩), অ্যালেক্স ক্যারি (২০) ও মিচেল স্টার্কের (৩) উইকেট৷ মাঝে কুল্টার-নাইলকে (২) রিয়াজ ও কামিন্সকে (২) হাসান আলি ফিরিয়ে দেন৷ ১ রানে অপরাজিত থাকেন রিচার্ডসন৷ আমের ১০ ওভারে ৩০ রানের বিনিময়ে ৫টি উইকেট নেন৷