ইসলামাবাদ: বালাকোটে ভারত এয়ারস্ট্রাইক করেছে অন্তত মাস দেড়েক আগে। এরপর থেকে ওই জায়গায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি কাউকে। কিছুদিন আগেই রয়টার্সের সাংবাদিকদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এবার ঘটনার অন্ত দেড় মাস বাদে ভারতের প্রথম দফা ভোট শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন বালাকোটে সাংবাদিকদের নিয়ে গেল পাকিস্তান।

পাকিস্তানের দাবি, যে জায়গায় ভারত এয়ারস্ট্রাইক করেছিল, সেখানেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার সেই খবর জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন পাক সেনার মুখপাত্র আসিফ গফুর। তিনি জানিয়েছেন, বালাকোটে একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বালাকোটের একটি ইসলামিক স্কুলেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের। সেখানেই এয়ারস্ট্রাইক হয়েছিল বলে দাবি। বুধবার সকালে সংবাদমাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয়। একটি মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে অন্তত ১৩০ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। সঙ্গে ছিল পাক সেনার পাঁচ মহিলা সদস্য।

পাকিস্তান ওই মাদ্রাসা দেখিয়ে সবাইয়ের কাছে ব্যাখ্যা দিয়েছে যে ওখানে কোনও ক্ষতিই হয়নি। সবকিছু আগের মতই আছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ও বায়ুসেনা আগেই জানিয়েছিল যে বালাকোটে জঙ্গি ডেরায় বোমা ফেলে লক্ষ্যে আঘাত করতে পেরেছে এয়ার ফোর্সL যদিও মৃত জঙ্গির সংখ্যা কখনই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। আর প্রথম থেকেই ভারতের দাবি নস্যাৎ করছে পাকিস্তান। তারা দাবি করেছে যে ওখানে আসলে জঙ্গি ডেরা নয়, ছিল মাদ্রাসা।

এর আগে বার তিনেক রয়টার্সের সাংবাদিকদের ওই জায়গায় যেতে বাধা দেওয়া হয়। প্রত্যেকবারই ওই মাদ্রাসায় যাওয়ার রাস্তা ছিল বন্ধ। এলাকার লোকজন শুধু জানায় যে সেখানে একটি মাদ্রাসা আছে যা একসময় জইশের সদস্যরা চালাত। এটিকেই জইশের ঘাঁটি বলে চিহ্নিত করে এয়ার স্ট্রাইক করে ভারত।

নিরাপত্তার কারণেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করে আসছিল পাকিস্তানের প্রশাসন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকেই জায়গাটি ঘিরে রাখা ছিল। মাদ্রাসাই যখন চলছিল, তাহলে নিরাপত্তার কারণে কেন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না তা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন।

এর মাঝে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একাধিকবার দাব করেন যে যুদ্ধের জিগির তুলে নরেন্দ্র মোদী ভোটে জিততে চাইছেন। আবার ভারতের প্রথম দফার ভোটের দু’দিন আগে ইমরান খান বলেন, নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হলে আলোচনার পথ খুলবে। যা নিয়ে ভারত-পাক কূটনীতি নিয়ে নতুন করে হয় আলোচনা। এবার ভোটের ঠিক আগের দিন রাতে বালাকোটে সংবাদমাধ্যমকে নিয়ে যাওয়ার খবর জানিয়ে পাকিস্তান কী প্রমাণ করতে চাইছে, সেই প্রশ্নই উঠছে বিভিন্ন মহলে।