নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদী সার্ক সম্মেলন বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই ভারতের পাশে দাঁড়াল আরও তিন দেশ। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও ভুটানও সার্ক সামিট বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তানকে একঘরে করার প্রচেষ্টাই একধাপ এগোল ভারত। উল্লেখ্য, সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন বা SAARC সামিট অনুষ্ঠিত হবে না, যদি আট সদস্যের মধ্যে যে কোনও একটা দেশ নিজেদের সরিয়ে নেয়।

সার্ক সম্মেলনে অংশ নিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তরফে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে একটি দেশের বারবার নাক গলানোয় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা অনভিপ্রেত। তাই নভেম্বরে ইসলামাবাদে ১৯ তম সার্ক সম্মেলনে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়।’ ভুটান অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। কারণ হিসেবে সন্ত্রাসকেই দায়ী করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘ওই দেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিবেশ নষ্ট করেছে।’ ভুটান রাজার তরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘সার্কের সদস্য দেশের জন্য একটি বিশেষ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নষ্ট হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পক্ষে সার্ক সামিটে যোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ একই কারণে সরে দাঁড়িয়েছে আফগানিস্তানও। আফগানিস্তানের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ক্রমাগত বেড়ে চলা নৃশংশতার জেরে সন্ত্রাস বেড়েছে আফগানিস্তানে। তাই কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে আফগান প্রেসিডেন্ট মহম্মদ আশরফ ঘানি অত্যন্ত ব্যস্ত থাকছেন ও সার্ক সামিটে যোগ দিতে পারছেন না।’

মঙ্গলবার ট্যুইট করে ভারতের বয়কট করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে৷ জানা গিয়েছে, এই মর্মে ইতিমধ্যে নেপালে সার্কের প্রধান কার্যালয়ে তাদের বক্তব্য জানিয়েও দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক৷ যেখানে বলা হয়েছে সীমান্ত পারের জঙ্গি হানার মতো ঘটনা বেড়ে যাওয়া ও তাতে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদত থাকায় ইসলামাবাদে সার্ক সম্মেলনে যোগ দেবে না ভারত৷ ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপের ট্যুইট করে জানিয়েছেন, যতদিন না আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে পাকিস্তান৷ ততদিন তাদের সঙ্গে কোনও বৈঠকে যাবে না ভারত৷

উরি হামলার পর থেকেই পাকিস্তানকে একঘরে করার চেষ্টা করে চলেছে ভারত। সিন্ধু চুক্তি নিয়েও বিবেচনা করা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত বৈঠকে মোদী বলেছেন, ‘রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না।’ অন্যদিকে, পাকিস্তানের থেকে Mist Favoured Country-র তকমাও সরিয়ে নিতে পারে ভারত।