ইসলামাবাদ: কাশ্মীর থেকে স্পেশাল স্টেটাস তুলে নেওয়ার পরই নানাভাবে সরব হয়েছে পাকিস্তান। কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছে তারা। এবার রাশিয়াকে সার্বিক পরিস্থিতি জানাল পাকিস্তান।

রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে কথা বললেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। জম্মু-কাশ্মীরের আর্টিকল ৩৭০ তুলে নেওয়া সহ উপত্যকায় সেনা বাড়ানো এবং কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের গৃহবন্দি করা নিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে কথা বলেছেন কুরেশি।

কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে এদিন কুরেশি বলেন, কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের পদক্ষেপ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এমন সিদ্ধান্ত উপমহাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে। তাছাড়া ভারতের এমন একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাশিয়া কাশ্মীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে সের্গেই ল্যাভরভ পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান চায় রাশিয়া।

কয়েকদিন আগেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, “রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল ফুলের মালা নিয়ে বসে নেই। যে কোনও একজন সদস্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এটা নিয়ে কোনও ধোঁয়াশা থাকা উচিত নয়। মূর্খের স্বর্গে বাস করা উচিত নয়।” এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন যে, “পাকিস্তান ও কাশ্মীরের মানুষদের এই বিষয়ে অবগত হতে হবে যে না কেউ ওদের জন্য অপেক্ষা করছে অথবা তাঁদের আমন্ত্রণের অপেক্ষা করছে।” কাশ্মীরের স্পেশাল স্ট্যাটাস মুছে দেওয়ার ঠিক সাতদিন পর এই ঘটনা ঘটছে। যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে পাকিস্তানের এইসব দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলেও মেলেনি সমর্থন। চিন থেকে রাশিয়া সকলেই সংযমি হতে বলেছে পাকিস্তানকে। তাই পাকিস্তান বুঝতে পেরেছে যে ফের কাশ্মীর ইস্যুতে হুঙ্কার দিলে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের পাঁচ স্থায়ী সদস্য (পি৫) ও মুসলিম দেশগুলি থেকে কোন বিষয়েই সমর্থন পাওয়া মুশকিল হয়ে যাবে।