শ্রীনগর: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে যখন উত্তাল দেশ। তার মধ্যেই ভারতে এল ২০০ পাকিস্তানু হিন্দু। সোমবারই যেমন ২০০ জন পাকিস্তানি হিন্দু ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে ভারতে এসেছেন। ২৫ দিনের ভিজিটার ভিসা নিয়ে এই দেশে এলেও এদের মধ্যে অনেকেই আর পাকিস্তানে ফিরতে চাইছেন না।

জানা গিয়েছে, এই পাকিস্তানদের দাবি, পাকিস্তানে প্রতি মুহূর্তে অসুরক্ষিত মনে হয়। তাই আর তাঁরা সেখানে থাকতে চান না। ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন চালু হওয়ার পরে তাঁরা নতুন করে বাঁচার আশা দেখতে পেয়েছেন। তাই এখানে এসেছেন।

২৫ দিনের ভিসায় ওয়াঘা-আত্তারি দিয়ে সোমবার ভারতে এসেছে ৫০টি হিন্দু পরিবার। তাদের মধ্যে একদন লক্ষ্মণ দাস জানান, ‘হরিদ্বারে পবিত্র স্নানের পর নিজের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবব। আগামী দিন ভারতে কাটাতে চাই।’

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বলবৎ হওয়ার পর পাকিস্তান থেকে হিন্দুদের ভারতে আসা বেড়েছে। এই আইন ঘিরেই আশার আলো দোখছেন পাকিস্তান থেকে আসা নির্যাতিত পরিবারগুলি। এঁদের অর অধিকাংশেরই আত্মীয়-স্বজন থাকেন রাজস্থানে।

গত বছরের ডিসেম্বরেই পাকিস্তানের সাত উদ্বাস্তু হিন্দুকে নাগরিকত্ব দিয়ছে ভারত৷ তাদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, নতুন নাগরিক সংশোধনী আইনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বিতাড়িত হয়ে ভারতে এলে, তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ১৯৫৫-র নাগরিকত্ব আইনের এই সংশোধনী অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আসা অন্য দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে তার জন্য ছ’বছর এ দেশে বাস করতে হবে। যদি তাঁরা অবৈধ অভিবাসী বলে চিহ্নিত হন, তাহলে তাঁরা স্বাভাবিক নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন না, তা সে যে ধর্মেরই হোন না কেন।

এদিকে, এই আইন পাশ হওয়ার পরই গোটা দেশ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে৷ পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি অবিজেপি রাজ্য নতুন নাগরিকত্ব আইন মানবে না বলে জানিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পিটিশনও ফাইল করা হয়েছে।সরকার এই পরিবর্তিত আইনকে সহানুভূতিশীল বলে দাবি করা সত্ত্বেও বিরোধীরা একে মুসলিম বিরোধী ও অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করছে৷