ইসলামাবাদ: মোট ২৭ জন জঙ্গিকে আফগানিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছে পাকিস্তান৷ এই জঙ্গিরা মূলত তালিবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদস্য বলে সূত্রের খবর৷ ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসেই জঙ্গিদের আফগানিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক৷

এদিন এই ইস্যুতে একাধিক ট্যুইট করে পাক বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফইজল জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে পাকিস্তান৷ এই পদক্ষেপ তারই অংশ৷ তেহরিক-ই-তালিবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্ক যাতে কোনওভাবেই পাকিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটাতে না পারে, তার জন্যই এই পদক্ষেপ বলে ইসলামাবাদ জানিয়েছে৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে ছিলেন, পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে যতদিন না জঙ্গি কার্যকলাপ বন্ধ করা হচ্ছে, ততদিন পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন৷ সেই চাপের কাছে নত হয়েই পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল৷ এমনকি পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে দ্বিচারিতা করছে বলেও সমালোচনা করা হয়৷ মার্কিন অনুদান বন্ধ করা হতে পারে বলেও সেদিন ট্যুইটে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প৷

পাক বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয় বিশ্বে সবচেয়ে সন্ত্রাস বিধ্বস্ত দেশ পাকিস্তান৷ ৭৫০০০ সাধারণ মানুষ ও ৬০০০ সেনা জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে৷ সন্ত্রাসে মৃত্যুর সংখ্যা এই দেশেই বেশি বলেও তথ্য দেওয়া হয়েছে৷

সেদেশের জন্য বরাদ্দ করা ২৫৫ মিলিয়ন ডলার বা ২৫ কোটি ৫ লক্ষ অনুদান বন্ধ করে দেয় ওয়াশিংটন। এর আগেও এই ব্যাপারে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এবার সেটাই করে দেখালেন ট্রাম্প। ট্যুইট করে বলা হয়, পাকিস্তান দিনের পর দিন আমেরিকার থেকে অনুদান নিয়েও ‘মিথ্যা’ ছাড়া আর কোনও প্রতিদানই দেয়নি। এরপরই এমন সিদ্ধান্ত নিল আমেরিকা।
মার্কিন প্রশাসনের তরফে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান যাতে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কড়া পদক্ষেপ নেয়।’ আগামিদিনে নিরাপত্তার জন্য আর কোনও অনুদান পাবে কিনা, সেটাও পাকিস্তানকেই তার ব্যবহার দিয়ে প্রমাণ করতে হবে।