জেনেভা: কাশ্মীর ভারতের রাজ্য৷ রাষ্ট্রসংঘে দাঁড়িয়ে একথা স্বীকার করে নিলেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি৷ মঙ্গলবার জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ মেহমুদ কুরেশি পরিস্কার জানান ‘Indian State of Jammu and Kashmir’৷

ইউএনএইচআরসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কুরেশি জানান, ভারত সবসময়ই চেষ্টা করছে কাশ্মীরের একটা শান্তিপূর্ণ ছবি তুলে ধরতে৷ কিন্তু সেটা সত্যি নয়৷ কাশ্মীরের জনজীবন স্বাভাবিক হয়নি৷ ভারতের রাজ্য জম্মু-কাশ্মীরে কেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না? প্রশ্ন তোলেন কুরেশি৷

আরও পড়ুন : প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানে খেলতে যেতে নারাজ মালিঙ্গারা

এই বক্তব্য রাখতে গিয়েই কাশ্মীরকে ভারতের রাজ্য বলে স্বীকার করে নেন পাক বিদেশমন্ত্রী৷ উল্লেখ্য, কাশ্মীর নিয়ে সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে চিন ও পাকিস্তান যৌথ ভাবে রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ হয়৷ কেননা কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার পর রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ চাইছে পাকিস্তান৷

এই প্রসঙ্গেই বলতে গিয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী জানান, নিরাপত্তা পরিষদের অবশ্যই হস্তক্ষেপ করা উচিত৷ কাশ্মীরে পেলেট গান ব্যবহার করা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অভাব, সুরক্ষার নামে ভারতীয় সেনার অত্যাচার ক্রমশ বাড়ছে৷ এই বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মহলে৷ যার তদারকি করবে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ৷ ভারত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলেও অভিযোগ করেন পাক বিদেশমন্ত্রী৷

আরও পড়ুন : ল্যান্ডার বিক্রমের অবস্থান নিয়ে আপডেট দিল ISRO

যদিও রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন জানান, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার একেবারেই ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এই নিয়ে অন্য কারোর কোন বক্তব্য শুনতে নয়াদিল্লি রাজি নয়। এছাড়াও তিনি পাকিস্তান সম্পর্কে জানান কোন বিষয়ের জন্য সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে মদত দেওয়াটা স্বাভাবিক কাজ নয়৷ কথা বলার আগে, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করা দরকার৷ এই বিষয়ে ভারতের পাশে রাশিয়া, ফ্রান্স, আমেরিকা এবং ব্রিটেন রয়েছে৷

এর আগে, চিন ও পাকিস্তানের যৌথ চিঠি গিয়েছিল রাষ্ট্রসংঘে৷ দুই দেশেরই দাবি কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার নিয়ে ভারতের ভূমিকা অনৈতিক৷ সেই বিষয়ে আলোচনা করুক রাষ্ট্রসংঘ৷ দাবি মেনে ১৯৬৫ সালের পর কাশ্মীর নিয়ে প্রথম রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ৷ বৈঠক শেষে ভারত জানিয়ে দেয় অযথা মাথা গলাচ্ছে পাকিস্তান। কাশ্মীর আমাদের অন্তর্বর্তী বিষয়।