লাহোর: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শনিবার রাত পর্যন্ত চলছিল দলীয় কর্মীদের সম্মেলন৷ সেখানেই বক্তব্য রাখছিলেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী খোয়াজা আসিফ৷ হঠাৎই এক ধর্মীয় চরমপন্থী ব্যক্তি এসে তাঁর মুখে কালি লেপে দেয়৷

অভিযুক্ত ব্যক্তির দাবি ইসলামের সর্বশেষ নবী মুহম্মদ এটিই সত্য৷ কিন্তু আসিফের দল সংবিধানের মাধ্যমে মনুষের সেই বিশ্বাসকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছে৷ এর ফলে তাঁর বিশ্বাসে আঘাত পোঁছেছে৷ পার্টির কর্মীরা এই ঘটনার পর অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নামে অভিযোগ দায়ের করেম ও তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷

আসিফ তাঁর বাড়ি সিয়ালকোটে পিএমএল-এন কর্মীদের সম্মেলন করছিলেন তখনই তাঁর পাশে দাঁড়ানো লম্বা দাড়িওয়ালা এক বয়স্ক ব্যক্তি বিদেশমন্ত্রীর মুখে কালি মাখিয়ে দেন৷ এই ঘটনা আসস্মিক হওয়ায় সবাই চমকে যান৷ এরপরই বিদেশমন্ত্রীকে তাঁর দেহরক্ষীরা বাইরে নিয়ে যান৷ এরপর অবশ্য হাসিন নিজের কালি লাগা মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করে আবার ফিরে এসে নিজের ভাষণ শেষ করেন৷

বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন,”আমি ওই ব্যক্তিকে চিনিনা৷ আমার মনে হচ্ছে বিরোধীরা ওঁকে আমার ওপর কালি ঢেলে দেওয়ার জন্য কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু আমি ওনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি৷ পুলিশকে বলব ওনাকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়৷” তিনি বলেন এই ঘটনায় তাঁর রাজনীতিতে কোনও প্রভাব পড়বেনা৷

বিদেশমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, “এই ঘটনার পর আমার ওই ব্যক্তির উপর সহানুভূতি আরও বেড়েছে৷” এই ঘটনায় ভিড়ের মধ্যে ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার প্রয়োজন পড়ে৷ সিয়ালকোট পুলিশ জানিয়েছে ওই ব্যক্তির নাম ফয়েজ রসুল৷

পুলিশের এক আধিকারিক এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “রসুলের কোনও রাজনৌতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই৷ উনি পুলিশকে বলেছেন বিদেশমন্ত্রীর পার্টি পয়গম্বর মহম্মদের ইসলামে অন্তিম নবী হওয়ার সত্যতাকে অস্বীকার করে৷ এই সত্যকে মন্ত্রীর পার্টি সংবিধানের মাধ্যমে বদলানোর চেষ্টা করেছে৷ এই কারণেই ওনার মুখে কালি ঢেলে দেন তিনি৷ সংবিধানের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের প্রচেষ্টার ফলে তাঁর ও পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশ্বাসে আঘাত করা হয়েছে৷”