নিউইয়র্ক: পাকিস্তানের লেখা নতুন নাটকের সাক্ষী রইল রাষ্ট্রসংঘ৷ রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্য বয়কট করল পাকিস্তান৷ জয়শঙ্করের বক্তব্য রাখার সময় সাধারণ সভার অনুষ্ঠানে এলেনই না পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি৷

পাকিস্তানের এই অভব্য আচরণকে ‘নাটক’ বলে ব্যাখ্যা করেছে নয়াদিল্লি৷ সার্কভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের নিয়ে বিশেষ সম্মেলন চলছিল রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার সাইড লাইনে৷ সেখানেই এই ‘নাটক’ করে পাকিস্তান৷ নয়াদিল্লির মতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের এই আচরণ যথেষ্ট অসাংবিধানিক ও কাঁচা পদক্ষেপ৷

বৃহস্পতিবার সার্কভুক্ত দেশগুলির বৈঠক শুরু হয় পাকিস্তানকে ছাড়াই৷ পরে পাক বিদেশমন্ত্রক ট্যুইট করে জানায়, কাশ্মীর ইস্যুতে প্রতিবাদ করতেই তাঁদের এই পদক্ষেপ৷ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার পর বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর বেরিয়ে যেতেই সম্মেলনে প্রবেশ করেন পাক বিদেশমন্ত্রী কুরেশি৷

আরও পড়ুন :অন্তত ৪০ জন কল গার্ল, বলিউড আভিনেত্রীদের নাম দেশের সবথেকে বড় মধুচক্রে

এরপরেই নয়াদিল্লির তরফ থেকে পাকিস্তানের এই আচরণের নিন্দা করে নাটক বলে গোটা ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয়৷ আলোচনার পথ পাকিস্তান নিজের হাতেই বন্ধ করে দিচ্ছে বলে জানায় ভারত৷

জয়শঙ্কর জানান, কাশ্মীর থেকে হিংসা দূর করাই কেন্দ্র সরকারের কাছে প্রথম চ্যালেঞ্জ৷ একটাও যাতে প্রাণহানি না হয়, তার জন্য সদা সচেষ্ট সরকার৷ ২০১৬ সালে বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর উত্তপ্ত হয়ে কাশ্মীর৷ সেই পরিস্থিতি আর চায় না কেন্দ্র৷ সন্ত্রাসকে সমূলে বিনাশ করাই কেন্দ্রের লক্ষ্য৷

বিদেশমন্ত্রীর মতে কাশ্মীর এখন অনেক শান্ত৷ বিশ্বকে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে, সদর্থকভাবে চাইলে যে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব৷ কোনও তৃতীয় শক্তির কাছে মাথা নত না করেই ভারত কাশ্মীরকে শান্ত করেছে, এখানেই মোদী সরকারের সাফল্য৷ গত তিন দশকে ৪২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন কাশ্মীরে৷ সেই মৃত্যু মিছিল বন্ধ করতে চেয়েছে ভারত৷ কাশ্মীরকে দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতই এক স্বাভাবিক জীবন উপহার দিতে চেয়েছে৷ সেই লক্ষ্যে এখন সফল মোদী সরকার৷

আরও পড়ুন : মঙ্গলে তখন বসন্ত, বরফ ঢাকা লালগ্রহের ছবি দেখলে চোখ ফেরাতে পারবেন না

এদিন জয়শঙ্কর বলেন ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তান এবং চিন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কিন্তু এই দুই দেশের অ্যাজেন্ডা ভিন্ন। পাকিস্তান শুধুমাত্র ভারতের জন্যই তৈরি করেছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের ব্যাঘাত ঘটায় বিচ্ছিন্ন পরিবেশ তৈরি হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে। আর সেটাকেই কাজে লাগাচ্ছে পাকিস্তান।

বৈঠকে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীকে বেশ কিছু প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন ভারতীয় সাংবাদিকরা৷ তবে কোনও প্রশ্নের উত্তরই দেননি তিনি বলে অভিযোগ৷ প্রশ্নগুলি মূলত সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে থাকায়, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী কুরেশি তার উত্তর দেননি বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল৷

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব