ইসলামাবাদ: সন্তুষ্টি হচ্ছে না পাকিস্তানের৷ পুলওয়ামা নিয়ে একের পর এক প্রশ্নমালা সাজাচ্ছে ভারতের সামনে৷ বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়জল জানান, পুলওয়ামা হামলা পাকিস্তানের জড়িত থাকার যে প্রমাণ ভারত দিয়েছে, তা যথেষ্ট নয়৷ পাশাপাশি, এই হামলা বেশ কিছু তথ্য ভারতের কাছে চেয়ে পাঠানো হয়েছিল, তারও যুক্তিগ্রাহ্য কোনও উত্তর দিতে পারেনি ভারত৷

বৃহস্পতিবার পাকিস্তান জানায়, পুলওয়ামা হামলা সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্ন ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে তারা৷ যার মধ্যে জইশের সঙ্গে এই হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণও চাওয়া হয়েছে৷ এরই পাশাপাশি জানানো হয়েছে ভারত এমন কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি যাতে জানা যায় যে এই হামলার পিছনে জইশের হাত রয়েছে, আর পাকিস্তান সরাসরি এই হামলার জন্য দায়ী৷

আরও পড়ুন : পাকিস্তানকে তথ্য ফাঁসে অভিযুক্ত জওয়ানের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশে ব্যর্থ গোয়েন্দারা

মহম্মদ ফয়জল এদিন বলেন, তিনি একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই বিষয়ে ভারতের কাছে জানতে চান৷ কিন্তু কোনও উত্তর না পেয়ে তারা হতাশ৷ এই ইস্যুতে ভারতীয় হাই কমিশনারকেও কিছু প্রশ্ন পাঠানো হয়েছে৷ ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ পুলওয়ামায় ভয়াবহ হামলা চালায় জইশ জঙ্গিরা৷ ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হন৷

ফয়জলের বক্তব্য, ভারত পাকিস্তানের ওপর আরও হামলা চালাতে পারে, এমন আশংকা করা হচ্ছে৷ পাক গোয়েন্দা সূত্রে এই খবর পাওয়া গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷ তবে ভারত হামলা চালালে পাকিস্তানও চুপ থাকবে না বলে বার্তা দিয়েছেন ফয়জল৷

আরও পড়ুন : পাকিস্তানি পাইলটদের রাফায়েল ওড়ানোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার তথ্য খারিজ করল ফ্রান্স

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হানার পর ভারত সরকার পাকিস্তানের হাতে জইশ যোগের প্রমাণ তুলে দেয়৷ ভারত জানায়, পাকিস্তানে বসে জইশ সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে৷ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ, ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ট্যুইটার ঘেঁটে এই সব তথ্যের সূত্র খুঁজে পাওয়া গিয়েছে৷ অনেকে খোলাখুলিভাবে জইশ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে৷ প্রসঙ্গত, হামলার পরেই পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ তার দায় স্বীকার করে৷

তবে তার পরেই পাকিস্তান সরকার বিবৃতি দিয়ে জানায়, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতকে তদন্তে সবরকমের সাহায্যে আশ্বাস দিয়েছেন৷ পাকিস্তান এখনও সবরকমের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত৷ কারণ পাকিস্তান শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী৷ কিন্তু ভারতকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে হবে৷ জবাবে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারত একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়৷ যাতে হামলার সঙ্গে পাক যোগের প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছিল৷