ইসলামাবাদ: মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড এবং জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সইদকে রাষ্ট্রসংঘের জিজ্ঞাসাবাদের পর্বে ধাক্কা৷ জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রসংঘের ওই দলের ভিসা মঞ্জুর করেনি পাকিস্তান৷ রাষ্ট্রসংঘের UNSC 1267, এই কমিটির নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করে হাফিজ সইদ৷ এই বিষয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল দলটি৷ কিন্তু পাকিস্তান তাদের ভিসা মঞ্জুর করেনি বলে জানা গিয়েছে৷

প্রসঙ্গত, ২০০৮-এর ডিসেম্বর থেকে হাফিজ সইদ রাষ্ট্রসংঘে ঘোষিত জঙ্গি। মুম্বই হামলার পর রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। হাফিজ সইদ ২০১৭ সালে গৃহবন্দি থাকাকালীন লাহোরে অবস্থিত ‘মির্জা অ্যান্ড মির্জা’র মাধ্যমে রাষ্ট্রসংঘে একটি আবেদন দায়ের করে এবং তার ওপর নিষিদ্ধ তকমা ঘোচানোর চেষ্টা করতে থাকে। হাফিজের এই আবেদনে রাষ্ট্রসঙ্ঘের দল তার সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলতে চাইলে, পাকিস্তান ভিসা মঞ্জুর না করে তাতে বাধ সাধে৷ নিয়ম অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত কারও নাম ওই তালিকা থেকে সরিয়ে নিতে গেলে রাষ্ট্রসঙ্ঘের দল ব্যক্তির সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলে৷ কিন্তু পাকিস্তান ভিসা মঞ্জুর না করায় সেই প্রশ্নোত্তর পর্ব ধাক্কা খায়৷ তবে এরপর ভিডিও ইন্টারভিউ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে৷

জঙ্গি সংগঠনের মাথা হাফিজের আবেদনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘে ভারত সরকার জানায়, হাফিজ সইদ গোপনে সন্ত্রাসবাদী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যার যথেষ্ট প্রমাণও রয়েছে। ভারত ছাড়া আমেরিকা, ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মতো দেশগুলিও হাফিজের এই আবেদনের বিরোধিতা করে।

এদিকে, লাগাতার ভারতের চাপ এবং আন্তর্জাতিক চাপের কাছে ইতিমধ্যেই মাথা নত করেছে পাকিস্তান। আর তা করে ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জঙ্গি হাফিজ সঈদের সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়াকে৷ একই সঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জামাত-উদ-দাওয়ার শাখা সংগঠন ফালা-ই-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশনকেও৷ মুম্বইয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হাফিজ সঈদ৷ নিষিদ্ধ করার পর জামাত-উদ-দাওয়ার সদর দফতর দখল করে পাকিস্তান প্রশাসন। একই সঙ্গে জামাত-উদ-দাওয়ার শাখা সংগঠন ফালা-ই-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশনেরও দফতরেরও দখল নিয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি লাহোরের জেএউডির একাধিক মাদ্রাসা এবং মসজিদের দখল করে লাহোর প্রশাসন। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে ইমরান সরকারের পক্ষ থেকে সে দেশের পঞ্জাব এবং লাহোর প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।