ইলামাবাদ: পুলওয়ামা ঘটনার পর কেটে গিয়েছে তিন দিন৷ বিশ্ব আঙিনায় ক্রমশ জোড়ল হচ্ছে প্রতিবেশীর বিরুদ্দে ভারতের অভিযোগ৷ সন্ত্রীসে মদতদাতা পাকিস্তান৷ কড়া পতিক্রিয়া দিয়েছে আমেরিকা থেকে রাশিয়া৷ এতে সামিত মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশও৷ ক্রমশ চাপ বাড়ছে ইসলামাবাদের উপর৷ এই পরিস্থিতি নিজেদের দোষ ঢাকতে প্রতি আত্রমণের পথে ইসলামাবাদ৷

আরও পড়ুন: নিরাপত্তা হারানো অবদুল গনির মুখে ভারত-পাক যুদ্ধের ইঙ্গিত

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার জন্য ভারতের ঢিলেঢালা নিরাপত্তাকেই দায়ি করেছে পাকিস্তান৷ বৃহস্পতিবারের জঙ্গি হামলায় দায়ী ভারতে গোয়েন্দা ব্যর্থতা৷ ঢিলেঢালা নিরাপত্তার জন্য নয়াদিল্লির পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেকা উচিত বলে মনে করে ইসলামাবাদ৷ রবিবার এই মর্মেই বিবৃতি জারি করেছে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক৷ এছাড়াও দাবি করা হয়েছে, ভারতে জঙ্গি হামলা হলেই এই কায়দাতেই দোষারোপ করে নয়াদিল্লি৷ এটা তাদের পুরোন খেলা৷

বৃহস্পতিবার পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে৷ সেনা কনভয় বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে হামলা করে এক যুবক৷ পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আত্মঘাতী জঙ্গির রের্কড করা বয়ান শোনা যায়৷ সেই অডিও টেপে দাবি করা হয় আত্মঘাতী আদিল মহম্মদ দার জৈশ-ই-মহম্মদের সদস্য৷ হামলায় শহিদ হন ৪০ সিআরপিএফ জওয়ান৷ ঘটনার পরপরই নয়াদিল্লি দাবি করে, এই হামলার পেছনে রয়েছে ইসলামাবাদের মদত৷

আরও পড়ুন: কাশ্মীরে শুরু হল সেনাবাহিনীর ”অপারেশন-২৫”

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী৷ প্রতিবেশী দেশটিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একঘরে করতে উদ্যোগী হয় ভারত৷ আমেরিকা, রাশিয়া, ইরান, ইরাক সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সন্ত্রাস মোকাবিলায় ভারতের পাশে দাঁড়ায়৷ আমেরিকার তরফে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানকে আগের অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ পুলওয়ামা ঘটনার পর ইসলামাবাদে যাওয়া পিছিয়ে দেন পাক বন্ধু দেশ সৌদি আরবের যুবরাজ৷

এই পরিস্থিতেতে পাকিস্তান বুঝছে যে বিশ্ব আঙিনায় তাদের কাজ ভালো ভাবে কোনও দেশই মেনে নিচ্ছে না৷
ফলে ওফেন্স ইস দ্য বেস্ট ডিফেন্স৷ এই তত্ত্ব মেনে ইসলামাবাদ প্রতি আক্রমণের পথই বেছে নিয়েছে৷ পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে ভারতকেই৷ ঘটনার দায় এড়াতে ঢাল করা হয়েছে এদেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তার ঢিলেমিকে৷

আরও পড়ুন: ‘বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করুক ভারত’

এই প্রথম নয়৷ বৃহস্পতিবার রাতেও পাক বিদেশমন্ত্রকের তরফে এর বিবৃতি জারি করা হয়৷ যাতে লেখা ছিল ভারত তদন্ত না করেই বলে দিচ্ছে হামলার পেছনে রয়েছে পাক মদত৷ এনআইয়ে ও এনএসজি যাওয়ার আগে এটা কীভাবে সম্ভব? তবে মায়া কান্নার মতো ইসলামাবাদের তরফে সন্ত্রাসী হালারর জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ-ও করা হয়৷ পরে পাক বিদেশমন্ত্রী জার্মানি মাটিতে দাঁড়িয়ে এই হামলার পেছনে তাদের ভূমিকার কতা অস্বীকার করেন৷

প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, হঠাৎ কেন ফের মুখ খুলল পাকিস্তান? তাহলে কী আন্তর্জাতিক মহলের মনোভাব বুঝেই ভারতের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দায় এড়ানোর কৌশল ইসলামাবাদের৷