জম্মু: সতর্ক করেছিল পাকিস্তান৷ অবশ্য তারপর একাধিকবার অনন্তনাগে ও পুলওয়ামায় হামলা চলেছে৷ কখন ভারি শেলিং, কখনও আইইডি বিস্ফোরণ৷ শহিদ হয়েছেন বেশ কয়েকজন ভারতীয় জওয়ান৷ এবার গোয়েন্দা সূত্রে নয়া তথ্য মিলল৷ সীমান্তে ভারতীয় সেনার ওপর হামলা চালাতে তৈরি হয়েছে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন৷

এর মধ্যে নাম উঠে আসছে লস্কর ই তৈবা ও জইশ ই মহম্মদের৷ ইতিমধ্যেই এই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের কয়েকজনকে বাছাই করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷ বড়সড় নাশকতার ছক রয়েছে তাদের বলেই জানা গিয়েছে৷ মূলত এদের লক্ষ্য দক্ষিণ কাশ্মীরে সেনা কনভয়ে হামলা চালানো৷ হামলা চালানো হতে পারে সেনা ছাউনিতেও৷

গোয়েন্দা সূত্রে খবর উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা ও শ্রীনগর কুপওয়াড়া হাইওয়েতে চলাচলকারী কনভয়ে হামলা চালানো হতে পারে৷ মনে করা হচ্ছে পাক সেনার সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হওয়ার পরেই সীমান্তে অবস্থিত সেনাছাউনিতে হামলা চালাতে পারে জঙ্গিরা৷ গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, এই গুলির লড়াই মূলত চালানো হবে ভারতীয় সেনার মনোযোগ সেদিকেই রাখার জন্য, যাতে জঙ্গিদের কার্যকলাপের থেকে সেনার নজর ঘোরানো যায়৷

আরও পড়ুন : রাতের কলকাতা মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়: মন্দাক্রান্তা সেন

লস্কর ও জইশ যৌথভাবে এই হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে বলে খবর৷ এর আগে, পুলওয়ামায় ফের বড় ধরনের জঙ্গি হামলা হতে পারে৷ এমন রিপোর্ট পায় ভারত সরকার৷ কোথায় এবং কতদিনের মধ্যে হামলা হতে পারে তা বিস্তারিত জানানো হয়৷ গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট নয়, ভারতকে এই তথ্য দেয় পাকিস্তান৷

শুনতে অবাক লাগলেও কাশ্মীরে সম্ভাব্য জঙ্গি নাশকতা নিয়ে ভারতকে সতর্ক করে পাকিস্তান৷ সূত্রের খবর, পাকিস্তান জানায় জাকির মুসার মৃত্যুর বদলা নিতে তৎপর হয়ে উঠেছে জঙ্গি সংগঠনগুলি৷ বিশেষ করে লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মহম্মদ পুলওয়ামার কায়দায় ভারতে হামলার ছক কষেছে৷ পাকিস্তানের কাছে খবর আছে, অবন্তিপোরা হাইওয়েতে বড় বিস্ফোরণ ঘটানো হবে৷ টার্গেট নিরাপত্তা বাহিনী৷ খুব তাড়াতাড়ি জঙ্গিরা হামলা করবে বলে জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন : কর্ণাটক কাঁটা: প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি ভেঙে দিল হাইকমান্ড

এই অবন্তিপোরাতেই এনকাউন্টারে খতম হয় জাকির মুসা৷ বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর সেই জায়গায় জাকির মুসাকে নিয়ে আসে হিজবুল৷ পরে হিজবুল ছেড়ে জাকির যোগ দেয় আল কায়েদায়৷ তাকে খতম করার জন্য হন্যে হয়ে খুজছিল নিরাপত্তা বাহিনী৷ অবশেষে ২৩মে অবন্তিপোরাতে জওয়ানদের গুলিতে খতম হয় সে৷

এদিকে জানা গিয়েছে, গত বেশ কয়েক মাস ধরেই নেপালে তৈরি হয়েছে আইএসআইয়ের এই গোপন ঘাঁটি, যাকে কন্ট্রোল রুম বলা হচ্ছে৷ সেখানে ইতিমধ্যেই পাক মাটিতে বেড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের মাথাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে৷ সেখানে ছিল বিভিন্ন জঙ্গি সংঘটনের কমাণ্ডাররাও৷ জি নিউজকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কাশ্মীর থেকে দুই জঙ্গি মার্চ-এপ্রিল মাসে নেপালে পৌঁছেছে৷