নয়াদিল্লি: দু’দিন আগেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একের পর এক গোলা বর্ষণ করে সম্ভাব্য জঙ্গি লঞ্চপ্যাড ধূলিস্যাৎ করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। আর, মঙ্গলবারই পাকিস্তানের তরফে কূটনৈতিক স্তরে ভারতকে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন না করার আর্জি জানানো হয়। গত রবিবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুহর্মূহ গোলাবর্ষণে জঙ্গি লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করার পাশাপাশি ৬-৭ জন জঙ্গি সহ বেশ কয়েকজন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ভারতীয় সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। অপরদিকে পাক সেনার তরফে এই তথ্য অস্বীকার করা হয়।

গত রবিবার এলওসিতে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে প্রবল গোলাবর্ষণ করে পাক সেনা। গোলাবর্ষণের ফলে সীমান্ত অঞ্চলের একটি স্কুলে আটকে পড়ে বহু পড়ুয়া। জবাবে ভারতের তরফ থেকেও ভারি মাত্রায় গোলাবর্ষণ করা হয়। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে থাকা পাক সেনার ঘাঁটি এবং জঙ্গি লঞ্চপ্যাডকেই লক্ষ্য করে জবাবি হামলা চালায় ভারত। আর এতেই ৬-৭ জন জঙ্গি এবং বেশ কিছু পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন ভারতীয় সেনাপ্রধান।

কিন্তু আগের মত এবারেও এই ধরণের দাবি নস্যাৎ করে দেয় পাক সেনা। প্রমাণ হিসাবে নীলম উপত্যকায় কয়েকজন পাক কূটনীতিক এবং বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ঘুরে দেখায় পাক সেনা। সাধারণ মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও জনপদও ঘুরে দেখেন প্রতিনিধিরা। কিন্তু, যখন নীলম উপত্যকায় কূটনীতিক এবং বিদেশি সাংবাদিকরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করছিলেন তখনই উত্তাল হয়ে ওঠে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজ্জফ্‌রাবাদ। জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ বাধার পাশাপাশি পাকিস্তানের থেকে স্বাধীনতার স্লোগানও শোনা যায়।

তবে, পাক সেনার আর্জি ভারত মেনে নিলেও পাকিস্তান আছে পাকিস্তানেই। এসবের মাঝে আজকেও সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরে ভারি গোলা বর্ষণ করে পাক সেনা। এই গোলা বর্ষণে এক স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে বলে ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর। আর এর মাঝেই জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দু’ই জঙ্গিকে কোণঠাসা করে ফেলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।