ইসলামাবাদ: বিশ্বজুড়ে মহামারীর রূপ নিয়েছে করোনা ভাইরাস। বাদ নেই পাকিস্তানও। ইতিমধ্যেই সে দেশে অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে। এছাড়া মারা গিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু তারপরেও করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা করার সময় বিশেষ পোশাক না থাকার কারণে প্রতিবাদ করে গ্রেফতার হতে হল পাকিস্তানের বেশ কিছু ডাক্তারদের।

দক্ষিণ পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটা শহরে পিপিই বা বিশেষ সুরক্ষা পোশাক না থাকার কারণে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ওই ডাক্তারেরা। পাকিস্তানের ডাক্তার সংগঠনের তরফ থেকে ওই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়েছিল। আর ওই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া প্রায় ৬৭ জন ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সমগ্র পাকিস্তান জুড়ে করোনা আতঙ্ক ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে।

ইতিমধ্যে ইসলামাবাদ, পঞ্জাব, সিন্ধু সহ বেশ কয়েক জায়গাতে বেশ কয়েকজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে বেশ কয়েক জায়গাতে আংশিক লক ডাউন এবং কয়েক জায়গাতে সম্পূর্ণ লক ডাউনের ঘোষণা করা হয়েছিল। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল জমায়েতের উপরেও। ওই সংগঠনের মুখপাত্র রহিম খান বাবর জানিয়েছেন গ্রেফতার করার পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও তারা পুলিশ ষ্টেশন ছেড়ে যাননি। জানিয়েছেন যতক্ষণ না বিশেষ পোশাক তাদের জন্য আনা হবে তারা ওইখানেই থাকবে।

এছাড়া রহিম খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাকিদের সঙ্গে তিনিও থানাতেই থাকবেন। পাশপাশি তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন ডাক্তারদের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে না কেন। তাড়া নিজেদের প্রানের ঝুকি নিয়ে কাজ করছেন। রোগীদের সেবা করছেন। এটুকু নিজেদের সুরক্ষার জন্য প্রাপ্য। এছাড়া বিশ্বজুড়ে সব দেশের ডাক্তারেরা এই বিশেষ পোশাক পরেই চিকিৎসা করছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে ওই ডাক্তারেরা তীব্র ভাষাতে আন্দোলন করছেন। প্রশ্ন তুলছেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

তার কিছুক্ষনের মধ্যেই ওই ডাক্তারদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। যদিও কোয়েটা বালুচিস্তানের রাজধানী। পাকিস্তানের সবথেকে বড় এবং সব থেকে গরীব এলাকার মধ্যে একটি। এই বিশেষ পোশাক না থাকায় সেখানে স্বাস্থ্য কর্মীদের কাজ করতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের উদাসীনতা এই রোগকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ডাক্তার এই ভাইরাসে কারনাত হয়েছেন। তারা প্রশ্ন তুলছেন ডাক্তারদের নিরাপত্তা না থাকলে কি করে নিজেদের কাজ করবেন ।