ইসলামাবাদ : কিছুটা কি ভয় পেয়েই পিছু হঠল পাকিস্তান ? বৃহস্পতিবার ভারতের দাবিকে নস্যাৎ করে ইসলামাবাদ জানিয়ে দিল পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চিনকে সাহায্য করতে কোনও অতিরিক্ত পাক সেনা মোতায়েন করা হয়নি। ভারতের এই দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন।

এদিন ট্যুইট করে পাক সেনার মিডিয়া শাখা জানিয়ে দেয় গিলগিট বালটিস্তানে অতিরিক্ত ২০ হাজার পাকস্তানি সেনা মোতায়েনের যে খবর ছড়িয়েছে, তা ভুয়ো। পাশাপাশি, এও জানানো হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের স্কার্দু বিমানঘাঁটি কোনওভাবেই চিনের ব্যবহার করার জন্য খুলে দেওয়া হয়নি।

পাক সেনার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক মেজর জেনারেল বাবর ইফতিকার জানান, এই ধরণের ঘটনার খবর ভুয়ো। ভিত্তিহীন। পাকিস্তান এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে না। পাকিস্তানের কোনও অংশে চিনা সেনার কোনও অস্তিত্ব নেই। পাকিস্তানের মাটিতে কোনও বিমানঘাঁটি ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে না চিন।

দিন কয়েক আগেই জানা গিয়েছিল পশ্চিম লাদাখ সীমান্ত লাগোয়া পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালতিস্তানে বাহিনী মোতায়েন বাড়াল পাকিস্তান। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, গিলগিট-বালতিস্তানে প্রায় ২০ হাজার বাড়তি সেনা পাঠিয়েছে পাকিস্তান।

লক্ষ্য, চিনা বাহিনীকে সহায়তা প্রদান করা। গিলগিট-বালতিস্তান এলাকার দিকে সৈন্য পাঠিয়েছে পাকিস্তান। চিনা সেনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য ২০,০০০ অতিরিক্ত বাহিনী লাদাখ অঞ্চলের দিকে পাঠিয়েছে পাকিস্তান। মনে করা হচ্ছে, চিন-পাকিস্তান উভয়েই ভারতের সঙ্গে টু ফ্রন্ট ওয়ারের দিকে যেতে চাইছে। ইন্ডিয়া টুডে-তে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে গোপনে কথাবার্তা চলছে চিনের।

এমনকি পাকিস্তানের কুখ্যাত ‘ব্যাট’ বাহিনীকে দিয়ে ভারতে হামলা চালানোর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, জঙ্গিদের পাশাপাশি, ভারতে নাশকতার জন্য বর্ডার অ্যাকশন টিম (ব্যাট)-কেও এগিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে পাকিস্তান।

তবে ভারতও বসে নেই। পাকিস্তানের মাটিকে যে চিন ব্যবহার করবেই, সেই আভাস ভারতের মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের কাছে ছিলই। তাই এই অতি আগ্রাসনের জবাব দিতে দেশের অন্য বেস থেকে পাক সীমান্তের পাঠানকোট, আম্বালা, চণ্ডীগড়ের এয়ারফোর্স বেসে একঝাঁক ফাইটার জেট নিয়ে আসা হয়েছে। আগ্রা ও গোয়ালিয়রে নতুন করে ইতিমধ্যে জারি হয়েছে হা‌ই অ্যালার্ট।

জানা যাচ্ছে, পাঞ্জাব, রাজস্থানের সীমান্তে বিপুল পরিমাণ সেনা সমাবেশ করছে ভারত। শুধুই পশ্চিম সীমান্তে নয়, চিনের কৌশল আন্দাজ করে সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে ভারত সেনা বাড়াচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে, সিকিম ও দার্জিলিং সীমান্তে বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতের এই সমর সম্ভার ও নজরদারির পরিমাণ দেখেই কি তাহলে ভয় পেল পাকিস্তান, তারপরেই তড়িঘড়ি প্রাণ বাঁচাতে এই বিবৃতি, প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ