নয়াদিল্লি: ২৩শে জুনই খতম হয়েছে জইশ ই মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহার? ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্রান্সিসকা ম্যারিনোর দেওয়া তথ্য সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে৷ বৃহস্পতিবার ইতালিয়ান সাংবাদিক দাবি করেন পাকিস্তান সেনার হাতেই খতম হয়েছে জইশ প্রধান৷

চলতি বছরের ২৩শে জুন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল রাওয়ালপিন্ডির সামরিক হাসপাতাল৷ এই বিস্ফোরণে যে বেশ বড়সড় ছিল তা প্রাথমিকভাবে জানায় পাক সংবাদমাধ্যম৷ কিন্তু, পাক সেনা দ্রুত সংবাদমাধ্যমকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে সম্পূর্ণ ‘মিডিয়া ব্লক’ করে দেওয়া হয়৷ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন বলে জানা যায়৷ তাদের আপতকালীন পরিস্থিতিতে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়৷

রাওয়ালপিণ্ডির এই সামরিক হাসপাতালেই ভরতি ছিল মাসুদ বলে তথ্য দেন ভারতীয় গোয়েন্দারা৷ কোয়েট্টার মানবাধিকার কর্মী আহসান উল্লাহ মিয়াখলিল জানিয়েছিলেন হাসপাতালের ওই বিস্ফোরণের প্রাণ হারিয়েছে মাসুদ আজহার৷ একই ইঙ্গিত দিয়েছিল পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশিও৷ তিনি মাসুদ আজহারের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতির কথাই সংবাদমাধ্যমকে জানান৷ তবে হাসপাতালে নয়, তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছিল পাক প্রশাসন৷

আরও পড়ুন : ভারত যুদ্ধবিমান না সরালে বন্ধ থাকবে এয়ারস্পেস: পাকিস্তান

কিছুদিন আগেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মৌলানা মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করেছিল৷ রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায়নি চিনও৷ এরপর থেকেই নাকি অসুস্থ মাসুদ সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ তবে বিভিন্ন দেশের গুপ্তচর সংস্থাগুলির নজর তাঁর উপর রয়েছে৷ পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে জঙ্গি হানায় ৪২ সেনা জাওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন৷ ঘটনার দায় নিয়েছিল পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ৷

গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, ৫০ বছরের মাসুদ স্পাইনাল কর্ড ও কিডনির রোগে আক্রান্ত৷ এক বছরের বেশি সময় রাওয়ালপিন্ডির মিলিটারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে৷ কিন্তু এখন মাসুদের যা শারীরিক অবস্থা তাতে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনাই খুব ক্ষীণ৷

আরও পড়ুন : পাঁচ মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ২৫ ওয়েবসাইট হ্যাক: রবিশঙ্কর প্রসাদ

ভারতে একাধিক জঙ্গি নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত আজহার৷ তাকে গ্রেফতারও করা হয়৷ কিন্তু ১৯৯৯ সালে কান্দাহার বিমান হাইজ্যাকের পর তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন ভারত সরকার৷ ছাড়া পেয়েই ভারতের বুকে একের পর এক জঙ্গি হামলা করে মাসুদ৷ যার মধ্যে অন্যতম ২০০১ সালের সংসদ হামলা, ২০০৫ সালে অযোধ্যা হামলা ও সাম্প্রতিক কালে ২০১৬ সালে পাঠানকোট বায়ুসেনা ছাউনিতে হামলা৷

২০১৬ সালে সেপ্টেম্বর মাসে পাঠানকোট এবং উরির ঘটনা ঘটে৷ পাঠানকোটে সাতজন এবং উরিতে ১৯ জন ভারতীয় সেনা জওয়ানকে মারতে সক্ষম হয় জৈশ জঙ্গিরা৷ ২০১৯ সালে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে পুলওয়ামায় ৪০ জনের বেশি জওয়ানে মৃত্যু ঘটনার পর মৌলানা এখন খবরে৷