নয়াদিল্লি: পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও পাকিস্তানি সেনা লাইন অব কন্ট্রোল বরাবর পাকিস্তানের লঞ্চপ্যাডগুলিতে একাধিক সিগন্যাল টাওয়ার বসাবার ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি সীমান্তে লাগানো হয়েছে ক্যামেরাও। মূলতঃ জঙ্গি ঘাঁটিগুলোকে আড়াল করতেই এহেন কাজে উদ্যোগী হয়েছে পাক বাহিনী, গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই বিস্ফোরক তথ্য। যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে অনেকের।

গোয়েন্দা রিপোর্ট জানাচ্ছে, পাক জঙ্গিরা ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে আইডি বিস্ফোরণ ঘটাতে চাইছে। গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, ক্যামেরা এবং সিগন্যাল টাওয়ারের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনা ভারতীয় সেনাবাহিনীর কার্যকলাপে লক্ষ্য রাখছে। জঙ্গি দমনে ভারতীয় সেনাদের তৎপরতার ওপর নজর রাখতেই ওই টাওয়ার ও ক্যামেরাগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুসারে, এলওসিতে ১৮ টি টাওয়ার বসানো হয়েছে। পাশাপাশি যে ক্যামেরাগুলি বসানো হয়েছে সেগুলিও বেশ শক্তিশালী ও উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন। গোয়েন্দা রিপোর্ট আরও জানাচ্ছে যে, ২৬ জানুয়ারির আগে সীমান্তকে অশান্ত করতে চাইছে জঙ্গিরা। তাই প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে একাধিক জায়গায় আইডি বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে তাঁরা।

তবে কেন পাক বাহিনী এই সিগন্যাল টাওয়ার বসানোর কাজ করছে? এর উত্তরে অনেকেই বলছেন, এর আগে পরপর দু’বার সীমান্তের ওপারে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে পাক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। হঠাৎ করে ইন্ডিয়ান আর্মি যাতে আবার সেই ঘটনা না পারে সেই কারণেই এই টাওয়ার বসিয়েছে পাকিস্তান।

উল্লেখ্য, এর আগেই গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছিল ২০২০ -এর প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে একাধিক জায়গায় নাশকতার ঘটনা ঘটাতে পারে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি। আর সেই কারণে, সীমান্ত থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশ করাতে মরিয়া পাক বাহিনী, উঠেছে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ। যদিও মুখে বারেবারেই শান্তির কথা জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তবুও পাকিস্তানের তরফে একাধিকবার বিনা প্ররোচনায় গুলি চালানো হয়েছে এলওসি-তে।

অন্যদিকে প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও অশান্তির ঘটনা ঘটতে দিতে নারাজ ভারতীয় সেনা। সেই মতো সীমান্তে কড়া রাখা হয়েছে নিরাপত্তা। দেশকে সবরকম সুরক্ষা দিতে সদা সজাগ ভারতীয় জওয়ানেরা।