ইসলামাবাদ: পুলওয়ামা হামলা নিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুরেই কথা বলল পাক সেনা। নির্বাচনের আগেই এই ধরনের হামলা হয় বলে অভিযোগ তুললেন পাক সেনার মুখপাত্র আসিফ গফুর।

কয়েকদিন আগেই ইমরান খান বলেন, সামনে সাধারন নির্বাচন ভারতে। আর সেই নির্বাচনে লাভ পেতেই নাকি এই এই জঙ্গি হামলা। এবার একই কথা বলল পাক সেনাও। পাকিস্তানের এক সাংবাদিক বৈঠকে গফুর বলেন, আসলে ভোটের আগে কাশ্মীরের আয়ত্তের বাইরে যাওয়া পরিস্থিতি এড়াতেই নাকি ভারতে এই ঘটনা।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের অর্থনীতিকে বড়সড় ধাক্কা দিতে উদ্যোগ ভারতের

নিজেদের দায় সম্পূর্ণ এড়িয়ে ভারতের দিকেই আঙুল তুলেছেন তিনি। বলেছেন, ভারতই যুদ্ধের কথা বলছে, পাকিস্তান নয়। ভারত বারবার যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিন আসিফ গফুর অভিযোগ করেন, ভারতের নির্বাচনের আগেই বারবার এই ধরনের হামলা হয়ে থাকে। একাধিক হামলা, যেখানে পাকিস্তানের যোগ থাকার প্রমাণিত সেইসব ঘটনার কথা উল্লেখ করে ভারতের বিরুদ্ধে আঙুল তোলেন আসিফ গফুর।

এদিন পাক সেনার মুখপাত্র প্রথমেই পার্লামেন্ট অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করেন। ২০০১ সালে সেই হামলার পিছনেও ছিল জইশ-ই-মহম্মদের নাম। গফুরের দাবি, সেইসময়ে ভারতের সাধারণ নির্বাচন ছিল, পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও ছিল। অথচ একটু পিছিয়ে গেলেই দেখা যাবে ভারতের ওই ঘটনার পর নির্বাচন ছিল ২০০৪ সালে। আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল ২০০২ সালে। যদিও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমজনতার ভোট দেওয়ার কোনও সুযোগ থাকে না। তাই সেক্ষেত্রে হামলায় সরকারের কোনও লাভ হওয়ার প্রশ্নও ওঠে না।

আরও পড়ুন: ভারতের অধিকাংশ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলি মদত পায় পাকিস্তান থেকে

এরপরই তিনি মুম্বই হামলার কথা বলেন। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে যে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল মুম্বইতে। পাক জঙ্গিদের যুক্ত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছিল সেই ঘটনাতেও। এমনকি ওই হামলায় যুক্ত থাকা অন্যতম জঙ্গি আজমল কাসভকে ফাঁসিও দেওয়া হয় ভারতে। গফুরের দাবি, সেখানেও নাকি আখেরে লাভ হয়েছে ভারতের। আদতে সেবারও আশেপাশে ছিল না ভোট। পরের বছর অর্থাৎ ২০০৯ সালে নির্বাচন হয় ভারতে।

এরপর পাক সেনা তুলে আনে ২০১৬ সালের পাঠানকোট হামলার কথা। যার পিছনেও জইশের হাত ছিল বলেই জানা যায়। মোদী সরকার ক্ষমতায় এসেছে তার বছর দেড়েক আগেই। তাই নির্বাচনের কোনও ব্যাপার ছিল না। গফুরের দাবি ওই বছরে ছিল রাজ্যের নির্বাচন। হিসেব বলছে, মাত্র পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচন ছিল সেবছর।

একসময় ভারতে নিযুক্ত পাক হাইকমিশনার তাঁর মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে বলেছিলেন, ভারতে প্রত্যেক মাসেই নির্বাচন থাকে। সেই পাক অফিসারের কথাই যদি ধরা যায়, তাহলে দেখা যাবে ভারতের মত বৃহত্তর দেশে কোনও না কোনও রাজ্যে নির্বাচন লেগেই থাকে। সেক্ষেত্রে পাক সেনার এই যুক্তি তেমনভাবে খাটে না।

এদিন পাকিস্তানের ওই সেনা অফিসার ছাড়লেন না উরি হামলার কথাও। গফুরের দাবি, হামলার কিছুদিন ওরই রাষ্ট্রসংঘে বক্তব্য রাখার কথা ছিল নরেন্দ্র মোদীর। আর এবার পাকিস্তানে সৌদি যুবরাজের সফর, পিএসএল ম্যাচের মত ইভেন্টের আগে অশান্তি তৈরি চেষ্টা বলে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

একইসঙ্গে পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে কোনঠাসা হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।