ফাইল ছবি

লাহোর: মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদকে জামিন দিল লাহোরের একটি সন্ত্রাস-বিরোধী আদালত। পাক সরকার যখন কঠিন ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছে ও ইমরান খান সরকারকে যখন সন্ত্রাসমূলক কাজের বিরোধীতার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে সেই আবহেই এইরকম ঘটনা ঘটে।

হাফিজ সইদ ও তার ১২ সহযোগীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে সে দেশের পাঞ্জাব প্রদেশের সন্ত্রাস দমন বিভাগ (সিটিডি)। বুধবারই হাফিজ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপ, সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে অর্থ জোগানো ও আর্থিক প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগ আনে পাকিস্তান। শনিবার কোনও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার সংযোগ নেই বলে শুক্রবার লাহোর আদালতে দাবি করেন। বলেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ ভুয়ো। কোনও নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই।

পড়ুন: হাফিজ সইদ নিষিদ্ধ নয়! ফের মিথ্যার মুখোশ খুলল পাকিস্তানের

তাঁরপরই সোমবার তাঁর জামিন হয়। কারণ হিসেবে জানা যায়, পাক সরকার আদালতে জোরালো প্রমাণ না দিতে পারায় এই রায়দান ররা হয়। ইতিমধ্যেই পাকিস্তান মোটা টাকার সহায়তা চেয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার-এর দ্বারস্থ হয়েছে, যাতে দেশের অর্থব্যবস্থাকে সচল রাখা যায়। সেই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

পাক মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, লাহোরের এই আদালত জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজকে গ্রেফতারের আগেই জামিন দিয়েছে। এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে জামাত-উদ-দাওয়ার বিরূদ্ধে বেয়াইনিভাবে ইসলামিক প্রতিশঠান চালানোর জন্য জমি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

২০১৮ এর জুন মাসে, এফএটিএফ পাকিস্তানকে দেশগুলির ধূসর তালিকায় রেখেছিল, যার অর্থ হল ওই দেশের আইন অর্থ প্রতারণা এবং সন্ত্রাসের অর্থ জোগানোর মতো কাজগুলি বন্ধ করার ক্ষেত্রে দূর্বল পদক্ষেপ নিচ্ছে।

হাফিজ সইদের নেতৃত্বাধীন জেইউডি যেটি লস্কর-ই-তৈবার একটি প্রধান সংগঠন, ২০০৮ এ মুম্বই হামলার নেপথ্যে এদেরই হাত আছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৪-র জুনেই আমেরিকা লস্কর-ই-তৈবাকে বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর তালিকাভুক্ত করে। পাশাপাশি হাফিজ সইদকেও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসাবে ঘোষণা করেছে তাঁরা। হাফিজ সইদ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিতে পারলে তাঁকে ১০ মিলিয়ন ইউএস ডলার দেওয়ার কথাও ঘোষণা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এত কিছু সত্ত্বেও ২০১৬-র পাঠানকোট হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের হাত থাকায় কঠোর অবস্থান নেয় ভারত। এ দেশের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে রাজি নয় তাঁরা। কেননা সন্ত্রাসবাদে মদত জোগানো এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা-এই দুই সমান্তরালভাবে কখনোই চলতে পারে না।