নয়াদিল্লি: ভারতে ফিরে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দেখা করে পাক এজেন্সির অত্যাচারের নির্মম বাস্তব নিয়ে মুখ খুললেন হামিদ নেহাল আনসারি৷ ছয় বছর আগে আফগানিস্তান থেকে অবৈধভাবে পাকিস্তানে ঢুকে পড়ায় পাক জেলে বন্দি ছিলেন এতোদিন৷ ভারতে ফিরে বিদেশমন্ত্রীকে জানালেন কিভাবে সেখানে তার ওপর অত্যাচার হয়েছে৷ সেই অত্যাচারের মাত্রা এতোটাই যে তার বাম চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছে৷

বুধবার নিজের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দেখা করেন তিনি৷ ৩৩ বছরের হামিদ জানান, তাকে গ্রেফতারের পর তাকে আলাদা জায়গায় একা রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে পাক এজেন্সির সদস্যরা৷

পড়ুন: বুলন্দশহরের হিংসায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব আদিত্যনাথের

প্রসঙ্গত, প্রেমের অমোঘ টানে পাকিস্তান পাড়ি দিয়েছিল দিওয়ানা হামিদ৷ আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে ঢোকার সময় তাঁকে গ্রেফতার করে সেদেশের পুলিশ৷ পাকিস্তানের কোহাট সেন্ট্রাল জেলে বন্দি ছিল সে৷ ১৫ ডিসেম্বর তাঁর কারাবাসের মেয়াদ শেষ হয়৷ এরপর সোমবার তাঁকে মুক্তি দেয় পাক প্রশাসন৷

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফইজল আনসারির বিরুদ্ধে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগ আনেন৷ জানান, হামিদ আনসারি একজন ভারতীয় চর৷ আফগানিস্তান থেকে অবৈধ ভাবে পাকিস্তানে প্রবেশের সময় ধরা পড়ে৷ তাঁর বিরুদ্ধে নথি জাল ও অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকারও অভিযোগ আনে পাকিস্তান৷

পড়ুন: দল বিরোধী কাজের জেরে বহিস্কার উপমুখ্যমন্ত্রীর ভাই

ভুয়ো পাকিস্তানি পরিচয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ২০১৫ সালে ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের সেনা আদালত হামিদ আনসারির তিন বছরের সাজা শোনায়৷ তাঁকে রাখা হয় খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ার সেন্ট্রাল জেলে৷ সেই হামিদ ছ’বছর পাকিস্তান জেলে কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফেরেন৷ পঞ্জাবের ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পা রাখেন ৩৩ বছরের এই যুবক৷