ইসলামাবাদ: দেশের আর্থিক সংকটের দিকে তাকিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর৷ প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাক সেনা৷ পরবর্তী অর্থবর্ষে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে৷

বুধবার নিজের ট্যুইটে পাক সেনার আইএসপিআর বা পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনের ডিরেক্টর জেনারেল, মেজর জেনারেল আসিফ গফুর জানান, প্রতিরক্ষা বাজেটে কাটছাঁট করা হচ্ছে৷ তবে দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার সঙ্গে কোনও আপোষ করবে না পাক সেনা৷

মেজর জেনারেল গফুর আরও বলেন, পাকিস্তানের সুরক্ষা নিয়ে সদা তৎপর পাক সেনা৷ কোনওভাবেই সেই সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় আঘাত আসবে না৷ সবরকমের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পাক সেনা সদা প্রস্তুত৷ তবে অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে বাজেট বরাদ্দ কমানো হয়েছে৷

আরও পড়ুন : বন্দি অবস্থায় ঈদ পালন করলেন খালেদা জিয়া

এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ তিনি বলেন পাক সেনার এই সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন৷ পাক সেনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন দেশের পাশে দাঁড়ানোর এই পদক্ষেপ পাক সেনাই নিতে পারে৷ যেভাবে দেশ কঠিক আর্থিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন, তাতে এই ধরণের পদক্ষেপ নি:সন্দেহে প্রশংসার যোগ্য৷

অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েও পাক সেনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য বড় হৃদয় চাই বলে ব্যাখ্যা করেছেন ইমরান খান৷ এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরিও৷ তিনি বলেন এই পদক্ষেপ নেওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়৷ নাগরিক ও সেনার যৌথ পদক্ষেপই দেশকে আর্থিক সংকটের হাত থেকে বাঁচাতে পারে৷

ইমরান সরকারের সাধারণ বাজেট পেশ করার কথা আগামী ১১ জুন৷ উল্লেখ্য চরম অর্থসংকটে ভুগছে পাকিস্তান৷ ২০১৮ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে সামরিক অস্ত্রকেনায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল এই দেশ৷ কিন্তু ২০১৯ সালে সেই বাজেট বরাদ্দ কোথায় দাঁড়ায়, সেইদিকেই নজর ছিল বিশ্বের৷

আরও পড়ুন : মোদীজিকে ধন্যবাদ দিন মমতাদিদি, ‘জয় হিন্দ’ বলতে বাধ্য হয়েছেন আপনি: অর্জুন

২০১৮ সালে পাক সেনাদের প্রতি একজন সেনার জন্য বার্ষিক গড় ব্যয় ছিল আট হাজার ৭৭ ডলার৷ পাকিস্তান সরকার ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য সামরিক খাতে বাজেট বরাদ্দ করেছিল ৯২০.১ বিলিয়ন রুপি৷

এর আগে, পাক প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে ছিলেন, দেশের নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য৷ সেই লক্ষ্যে কাজ করতে চাইছে পাক সরকার বলে জানিয়েছেন তিনি৷ তিনি আরও বলেন যদি প্রত্যেক প্রবাসী পাকিস্তানি দেশকে ১০০০ ডলার করে অনুদান দেন, তবে খুব সহজেই এই এই অর্থ সংকটের মোকাবিলা করতে পারবে তাঁর দেশ৷ সেই টাকা কোনওভাবেই নয়ছয় হবে না আশ্বস্তও করেন তিনি৷

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অর্থনীতিতে বারবার জোর দিয়েছেন ইমরান। ভিআইপিদের সরকারি টাকায় বিমানের ফার্স্ট ক্লাসে চড়া থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিলাবহুল গাড়ি বিক্রি সহ একাধিক সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তিনি।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।