বিশেষ প্রতিবেদন: রবিবারই বদলার আগুনে ঝলসে গিয়েছে পাক সেনা৷ বালুচিস্তানে চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের উপর তুরবাত এবং পঞ্জগুড় এলাকার মধ্যে আত্মঘাতী বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়েছে ৯ পাক সেনার দেহ৷ আহত ১১৷ এই ঘটনার পরই পাক সংবাদমাধ্যম জোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে – এবার ‘কালো বাঘের’ প্রতিশোধ পর্ব শুরু হয়েছে৷

পাক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জইশ-ই-মহম্মদের আত্মঘাতী হামলার বদলা পর্ব শুরু করে দিয়েছে ভারতের গুপ্তচর সংস্থা – ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইজিং উইং’(র)৷ ঘটনার দায় নিয়েছে ‘বালোচ রাজি আজওই সাংগার’বা ব্রাস ৷ ইসলামাবাদের সুরক্ষা কোটরে আলোচনা শুরু হয়েছে – পুলওয়ামার ঘটনার পর হাজার পাক সেনাকে পাকিস্তানের মাটিতেই খতম করতে প্রায় ৮০০ বালোচি সংগঠনকে আফগানিস্তানে তৈরি করে রেখেছে ‘র ৷’ বলা হচ্ছে, তুরবাত এবং পঞ্জগুড়ে ছোট একটা মহড়া হয়েছে মাত্র৷

জঙ্গি হানায় পাক মাটি রক্তাক্ত হয়েছে বহুবার৷ কখনও তেহরিক-ই-তালিবান (পাকিস্তান) বা কখনও ব্রাস – পাক সেনাদের মৃত্যু প্রতি মাসেই খবররে কাগজের হেডিং হয়েছে৷

এই সব জঙ্গি সংগঠনকে যে ‘র’ -ই মদত দিচ্ছে তা ফলাও করে লিখছে পাক মিডিয়া৷ কিন্তু প্রমাণ হাতড়াতে হয়েছে৷ তবে পাক প্রশাসন জানে দেশের কোনায় কোনায় ‘কালো বাঘরা’ লুকিয়ে রয়েছে৷ তাদের ক্ষমতাতেই দাঁত দেখাচ্ছে তেহরিক-ই-তালিবান (পাকিস্তান) এবং ব্রাস ৷ কিছুদিন আগেই পাক সেনেটর মুশাহিদ হোসেন দেশে ‘র’-এর কার্যকলাপ সম্পর্কে মুখ খুলেছিলেন৷ হোসেনের মতে ‘র’ আফগানিস্তানে চরম খেলা শুরু করেছে৷

তাঁর দাবি, সেখানে ভারতের পাঁচ দূতাবাস থেকে আফগানিস্তানের জিহাদিদের ট্রেনিং দিয়ে পাকিস্তানে জাল পেতে রেখেছে ‘র ৷’ পাকিস্তানে ফেডারেলি অ্যাডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়া (ফাটা) এবং বালুচিস্তান এখন ‘র’ এর হাতের মুঠোয়৷ বর্তমানে রাজধানী কাবুল ছাড়াও কান্দাহার, জালালাবাদ, মাজার-ই-শরিফ এবং হেরাটে ভারতীয় দূতাবাস রয়েছে৷

পাকিস্তানি নেতা-মন্ত্রীরা, এমনকী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানেরও অজানা নয় যে সারা দেশে কীভাবে ‘র’ জাল পেতে রেখেছে৷ পাক মিডিয়ার আলোচনাতেই পরিষ্কার, ইতিমধ্যেই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই পাক সেনাকে রিপোর্ট দিয়েছে – আফগানিস্তানের উপজাতি মন্ত্রকেই ঢুকে বসে রয়েছে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা ‘র’এর অফিসাররা৷ আফগান উপজাতি নেতাদের ট্রেনিং দিয়ে পাকিস্তানের উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে পাঠাচ্ছে৷

আইএসআই-এর কাছে খবর, তালিবানের আফগানিস্তানের ‘প্রায়’ দখল নিয়েছে ভারত৷ ‘নর্দান অ্যালায়েন্সের’সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ভারত৷ আফগানিস্তানের নির্বাচনের আগে ‘নর্দান অ্যালায়েন্সের’এর নেতাদের নিজের বাড়িতে বসিয়ে বিপুল অর্থ সাহায্য করেছে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত৷ ‘র’এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছে আফগানিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ‘রাইয়াস্ত-ই-ইমানিয়ত-ই-মিল্লি’বা রাম৷ বালুচ জঙ্গি সংগঠনের একটি অংশ বালুচিস্তানে লিবারেশন আর্মি রাম এবং ‘র’এর সঙ্গে পাকিস্তানে বিস্ফোরণের উৎসবে মেতেছে৷ প্রায় ৮০০ বালোচি সংগঠনকে আফগানিস্তানে ট্রেনিং দিচ্ছে ‘র ৷’

পাক সেনেটররা বলাবলি শুরু করেছে, বালুচিস্তানে স্বাধীনতার লড়াই আটকাতে লাখ-লাখ পাক সেনার রক্ত ঝড়বে৷ কারণ, ‘র’ এর প্রত্যক্ষ মদতে ওই স্বাধীনতা সংগ্রাম চলছে৷ তৈরি হয়েছে ব্রাস৷ বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি, বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট এবং বালুচিস্তান রিপাবলিকান গার্ড – এই তিন বিপ্লবী সংস্তা মিলিত হয়েই তৈরি হয়েছে ব্রাস৷ বালুচিস্তান পাকিস্তানের চার প্রদেশের মধ্যে সব থেকে অর্থনৈতিক ভাবে দূর্বল৷ তারা স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে৷ স্বাধীন বালুচিস্তানের পতাকাও রয়েছে৷ স্বাধীন বালুচিস্তানের কালাট প্রদেশের দাবি ১৯৪৮ সালেই খতম করেছিল পাকিস্তান৷ পাক সেনা বালুচিস্তানে খুন এবং ধর্ষণ শুরু করেছিল৷ পাক সেনা শাসক পারভেজ মুশারফ বালোচ নেতা এবং বালুচিস্তানের চতুর্থ গর্ভনর আকবর বুফতিকে সেনা অভিযানে খুন করেন৷ তার ছেলে ব্রাহমদা বুফতি ভারতের সাহায্যে জেনিভায় আশ্রয় নিয়ে রয়েছে৷ পাকিস্তানের ভয়, বালুচিস্তান রিপাপলিকান পার্টির এই নেতা জেনিভা থেকে ‘র’এর সাহায্যে বড়সড় ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন৷