ইসলামাবাদ: জঙ্গি সংগঠন জামাত-উ-দাওয়ার পিছনে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করেছে পাকিস্তান। এক সংবাদমাধ্যমে একধা নিজেই স্বীকার করে নিলেন পাকিস্তানের মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার ইজা আহমেদ শাহ। তিনি বলেন, মূল স্রোতে ফেরাতে জামাত-উদ-দাওয়া সংগঠনে পিছনে কয়েক মিলিয়ন খরচ করেছে ইমরান খান সরকার।

হাম নিউজ নামে এক পাক সংবাদমাধ্যমে একটি চ্যাট শো-তে সাংবাদিক নাদিম মালিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। সেখানে এই পাক মন্ত্রী বলেন, ‘জামাত-উদ-দাওয়ার পিছনে আমরা কয়েক মিলিয়ন খরচ করেছি। ওই দলের সদস্যদের মূল স্র্রোতে আমাদের ফিরিয়ে আনা দরকার।’

এটাই প্রথমবার নয়। এর আগে আমেরিকা সফরে গিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও। তিনি সেখানে বলে ফেলেছিলেন, যে পাকিস্তানে এখনও ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ জঙ্গি রয়েছে, যাদের কাশ্মীরে ও আফগানিস্তানের কিছু অংশে লড়াই করার জন্য ট্রেনিং দেওয়া হয়।

ইমরান খান বলেছিলেন, “২০১৪ সালে পাকিস্তানি তালিবানরা ১৫০ জন স্কুলছাত্রকে আর্মি পাবলিক স্কুলে ঢুকে হত্যা করেছিল। সেই সময় সমস্ত রাজনৈতিক দল জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা বিষয়ে স্বাক্ষর করেছিল এবং আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, আমরা কোনও জঙ্গি দলকে দেশের ভিতরে সক্রিয় থাকতে দেব না।”

তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকারই প্রথম এই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করছে। ওদের প্রতিষ্ঠান, সেমিনারগুলোর উপরেও পাক সরকার দখল নিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

তিনি একথাও স্বীকার করেছিলেন, ‘‘৪০টি জঙ্গি গোষ্ঠী পাকিস্তানে সক্রিয়। তাই পাকিস্তান একটা এমন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিল, যখন আমার মতো মানুষরা উদ্বিগ্ন হতাম এর থেকে বাঁচব কী করে সেকথা ভেবে।”

উল্লেখ্য, ভারতের পুলওয়ামা হামলার দায় স্বীকার করেছিল পাক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদ। গত কয়েকদিন আগে এই সংগঠনের নেতৃত্বে থাআক মাসুদ আজহারকে মুক্তি দিয়েছে পাকিস্তান। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি বলছে, এই উত্তেজনার পরিবেশের মাঝেই সন্ত্রাসবাদী হামলায় নেতৃত্ব দিতে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারকে গোপনে মুক্তি দিয়েছে পাকিস্তান। এর আগে, খবর মিলেছিল যে ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার ঘটনার পর নানা মহলে চাপে পড়ে মাসুদকে হেফাজতে নিয়েছিল পাক পুলিশ।

ভারতে একাধিক জঙ্গি নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত আজহার৷ তাকে গ্রেফতারও করা হয়৷ কিন্তু ১৯৯৯ সালে কান্দাহার বিমান হাইজ্যাকের পর তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন ভারত সরকার৷ ছাড়া পেয়েই ভারতের বুকে একের পর এক জঙ্গি হামলা করে মাসুদ৷ যার মধ্যে অন্যতম ২০০১ সালের সংসদ হামলা, ২০০৫ সালে অযোধ্যা হামলা ও সাম্প্রতিক কালে ২০১৬ সালে পাঠানকোট বায়ুসেনা ছাউনিতে হামলা৷