ইসলামাবাদ : ২০১৯ সালের ৫ই অগাষ্ট জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার শোক কিছুতেই ভুলতে পারছে না পাকিস্তান। ফলে বারবারই তাদের একাধিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় উঠে আসে কাশ্মীর প্রসঙ্গ। শুক্রবারও বড় দাদা চিনের কাছে এই বিষয়ে দুঃখপ্রকাশ করল ইসলামাবাদ।

শুক্রবার চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং উইয়ির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ টেলিফোনে কথা বলেন পাক বিদেশ মন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। মূলত কাশ্মীর নিয়েই আলোচনা হয় দুদেশের মধ্যে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার লক্ষ্যেই এই কথোপকথন বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি, আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়ে বলে জানা গিয়েছে।

ভারত নাকি সীমান্তে যুদ্ধের মনোভাব নিয়ে রয়েছে, বিনা প্ররোচনায় হামলা চালাচ্ছে, চিনের বিদেশমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন কুরেশি। ভারতের এই মনোভাব উপত্যকায় অশান্তি ছড়াচ্ছে বলেও এদিন জানিয়েছেন তিনি। পাক বিদেশমন্ত্রী বলেন কাশ্মীর উপত্যকার স্থিতাবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। অবনতি হচ্ছে পরিস্থিতির। পাকিস্তান এই বিষয়ে বেশ চিন্তিত বলেও জানিয়েছেন কুরেশি।

এদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে পাক সেনার উস্কানিতেই হামলা চলছে সীমান্তে। পাকিস্তান জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটানোর জন্য একাধিকবার ও লাগাতার হামলা চালাচ্ছে।

ভারত একাধিকবার পাকিস্তান ২০০৩ সালের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি মনে করিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আবেদন করেছে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।

এদিকে, পাকিস্তান যেভাবে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করছে, তা প্রশংসনীয় বলে জানিয়েছে চিন। করাচি হামলার প্রেক্ষিতে এদিন চিনা বিদেশমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

এদিকে, করোনা আক্রান্ত পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশ। তিনি নিজেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর দেন। নিজের আক্রান্তের হওয়ার খবরে পাক বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরে হালকা জ্বর আসায় কোভিড টেস্ট করতে দিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় জানতে পারেন রিপোর্ট পজিটিভ। এরপর থেকেই তিনি হোম কোয়ারানটিনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

পাশাপাশি কুরেশি আরও জানান, আপাতত হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন না। বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থেকেই সবরকম চিকিৎসা করবেন বলে জানিয়েছেন কুরেশি। অন্যদিকে, কাজও চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন কুরেশি। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত বাড়ি থেকেই সমস্ত কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যখনই জ্বর আসে তখনই করোনার সন্দেহ করেছিলাম। আর সেই কারণে রিপোর্ট আসার আগেই তিনি হোম আইসোলেশনে চলে যান বলে জানিয়েছেন। আর রিপোর্ট আসার পর আশঙ্কা সত্যি হয়। তবে আল্লাহের কৃপায় তিনি ভালো আছেন বলেই জানিয়েছেন।

অন্যদিকে ক্রমেই জটিল হচ্ছে পাকিস্তানের পরিস্থিতি। এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানে মোট সংক্রমণের হার ২,২১,০০০ তে। তবে জানা গিয়েছে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১১৩৬২৩ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে একাধিক স্বাস্থ্য কর্মীরা। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানা গিয়েছে মোট ২২১৮৯৬ জন করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ১১৩৬২৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ