নয়াদিল্লি: আজ ৯ নভেম্বর। পাকিস্তানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে ভারত-পাক সীমান্তে তৈরি করতারপুর করিডোর। অনুষ্ঠান ঘিরে অনেকদিন আগে পাক সরকারের তরফে শুরু হয়ে গিয়েছে তোরজোর। কোন কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা আসবেন এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, তার তালিকা তৈরি হয়েছে। চলে গিয়েছে তাঁদের কাছে নিমন্ত্রনপত্রও। এখন শুধুই ইমরান সরকারের কাছে রাত পোহানোর অপেক্ষা। তার পরই শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য খুলে যাবে করতারপুর করিডোরের দরজা।

এদিকে করতারপুর করিডোরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে তীর্থযাত্রীদের ভ্রমণ চার্জ নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করল পাক সরকার। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান শুক্রবার জানিয়েছে যে, গুরুনানকের পাঁচশো পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যে সমস্ত তীর্থযাত্রীরা আগামী শনিবার করতারপুর করিডোরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তাঁদের কাছ থেকে স্বল্প প্রবেশ মূল্য নেওয়া হবে। পাক সরকার জানিয়েছে এই প্রবেশ মূল্য হল ২০ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় পনেরোশো টাকার কাছে।

শনিবার সকালেই ভারতের তরফে এই করিডোরটি উদ্বোধন করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে ওই একই দিনে পাকিস্তানের তরফে সকলের জন্য করতারপুর করিডোর খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করবেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

জানা গিয়েছে, শনিবার যে সমস্ত তীর্থযাত্রীরা করতারপুরে আসবেন তাঁদের প্রবেশ মূল্য বাবদ ২০ ডলার দিতে হবে। এবং আগে থেকেই এখানে আসার জন্য অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করাতে হবে। ভারত থেকে যে পাঁচশো পঞ্চাশ জন তীর্থযাত্রী শনিবারের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন তাঁদের নামের তালিকা অনেক আগেই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভারতের তরফে যে পাঁচশো পঞ্চাশ জন তীর্থযাত্রী আসবেন সেই ব্যাপারে বৃহস্পতিবারই নিশ্চয়তা প্রকাশ করেছিলেন পাক বিদেশমন্ত্রী।

শনিবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে সমস্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকবেন তাঁরা হলেন, ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দ্রর সিং, অভিনেতা তথা রাজনীতিক সানি দেওল, ইউনিয়ন মিনিস্টার হরদীপ পুরি এবং হরসিমরত কউর বাদল। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন তারকা ক্রিকেটার তথা কংগ্রেস নেতা নভজোত সিধু। বৃহস্পতিবারই পাক বিদেশমন্ত্রীর তরফে করতারপুর যাওয়ার জন্য তাঁর ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছে।

গুরু নানকের পাঁচশো পঞ্চাশতম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী সোমবার থেকে শনিবার এখানে প্রায় ত্রিশ হাজার পুন্যার্থীর থাকা এবং খাওয়ার বন্দোবস্ত করবে পাক সরকার। জানা গিয়েছে, তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য পাঁচশো চুয়াল্লিশটি ইউরোপিয়ান স্টাইলে টেণ্ট তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও আছে, কুড়িটি সুইস স্টাইলে কটেজ এবং দরবার স্টাইলে কুড়িটি টেন্ট। এই পুরো ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ করা হবে ত্রিশ প্লট জায়গার মধ্যে।

প্রসঙ্গত, ভারত-পাক সীমান্তে তৈরি এই করতারপুর করিডোরটি ভারতের পঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলা থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এবং এটি ভারত পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সীমান্তের পাক নরয়াল জেলার অন্তর্গত। জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে প্রায় আঠারো বছর সময় পর্যন্ত এখানে কাটিয়েছিলেন গুরুনানক।