ইসলামাবাদ: পাকিস্তান সরকার এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই দেশের সাধারণ জনগণের উপর গোয়েন্দাগিরি শুরু করেছে বলে ঘোরতর অভিযোগ উঠেছে৷ অভিযোগ উঠেছে দেশের কোণায় কোণায় আইএসআই এবং পাক সেনা জনগণকে ভয় দেখানো শুরু করেছে৷ সমানতালে চলছে হুমকি, গ্রেফতার এবং অ্যাকাউন্ট ব্লকিং৷ দেশের সরকার, সেনা এবং আইএসআইয়ের নাগরিক জীবনে এভাবে অনুপ্রবেশ মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই৷

সাংবাদিক থেকে সমাজকর্মী, লেখক থেকে শিল্পী এবং সরকার বিরোধীদের উপর নজরদারি শুরু হয়েছে৷ সেনা বা সরকার হুমকি দিতে শুরু করেছে৷ আইনত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ এমনকি যে নাগরিকরা দেশের বাইরে রয়েছেন তাঁদেরও হুমকি শুনতে হচ্ছে৷ বলা হচ্ছে, পোস্ট তুলে নিন – নয়তো ফলাফল খারাপ হবে৷

সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা করার জন্য পাকিস্তানে বিশেষ কমিটি রয়েছে৷ কিন্তু সেদেশের মূলস্তর মিডিয়াকে বিভিন্ন ভাবে পাক সেনা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হয়েছে৷ সাংবাদিকদেক খবর সংগ্রহ করার বিষয়ে বিভিন্ন বাধানিষেধ আরোপ করেছে৷ কিন্তু দেখা যাচ্ছে, মূল সংবাদমাধ্যমগুলিকে বাদ দিলেও স্যোশাল মিডিয়ায় সরকার এবং সেনা বিরোধী প্রচার চলছেই৷ সেক্ষেত্রে স্যোশাল মিডিয়ার উপর আক্রমণ চলছেই৷ ফেসবুক এবং ট্যুইটারে পাক সরকার বিরোধী কথাবার্তা সহ্য করতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ পাক সেনাপ্রধান কমর জাভেদ বাজওয়াও স্যোশাল মিডিয়ায় পাক সেনা বিরোধী প্রচার নিয়ে তিতিবিরক্ত৷ সেক্ষেত্রে দেশের আমজনতার ফেসবুক এবং ট্যুইটারের দিকেই বন্দুক তাক করেছে পাক সেনা৷

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পাক সরকার একটি প্রশাসনিক নজরজারি সংস্থা তৈরি করে৷ ওই সংস্তার কাজ হল স্যোশাল মিডিয়ায় সরকার বিরোধী মন্তব্য এবং ঘৃণামূলক কথাবার্তার প্রচার বন্ধ করা৷ পাস সাংবাদিক এবং নিবন্ধক গুল বুখারিকে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় লোক গুম করে দেয়৷ কারণ তিনি সরকার বিরোধী লেখা লিখেছিলেন৷ কিছুদিন আগেই গুল বুখারি আবার মুখ খুলেছেন৷ বলেছেন, ওই নজরদারি সংস্থা আইএসআই-এর তৈরি৷ উদ্দেশ্য নাগরিক জীবনে নজরদারি করা৷ সাংবাদিক রিজওয়াল উর রহমান রাজিকেও টার্গেট করা হয়েছিল৷ লাহোরে তাঁর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়৷ অভিযোগ সরকার বিরোধী পোস্ট করেছেন৷

ফেসবুক সম্প্রতি বলেছে ২০১৮ সালে পাকিস্তানের ২২০৩টি পোস্টকে অভিযোগের ভিত্তেতে মুছে দিতে হয়েছে৷ গত কয়েক বছরের তুলনায় যা সাত গুণ বেশি৷ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশলানের গবেষক রাবিয়া মেহমুদ বলেছেন, এটা এখন পরিষ্কার যে ইন্টারনেট মাধ্যমে প্রকাশিত সরকার বিরোধী বক্তব্যকে যেকোনও মূল্যে আটকাতে চাইছে পাক সরকার৷ কিন্তু এটাও পরিষ্কার পাকিস্তান সেনার নীতির সমালোচনা হবেই৷ আটকানো যাবে না৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ