নয়াদিল্লি: মোদীর জমানায় একাধিক বিদেশ নীতি র কারিগর তিনি। চমক দিয়ে সেই সুব্রহামানিয়াম জয়শঙ্কর কে মন্ত্রিসভায় নিয়ে এলেন মোদী ও অমিত শাহ। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন কূটনীতিক জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেই শপথ নিলেন তিনি। যদিও কোন মন্ত্রক তাঁকে দেওয়া হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মনে করা হচ্ছে বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি।

গত মার্চ মাসেই রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পদ্মশ্রী পুরস্কার গ্রহণ করেছেন তিনি। গত চার দশকে তিনিই সবথেকে বেশি সময় ধরে বিদেশ সচিবের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৫ সালে এই দায়িত্ব পান তিনি। ২০১৮ তে অবসর নেওয়া পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। একসময় চিনের রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি। লাদাখে অনুপ্রবেশ রুখতে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। ডাকলাম সংঘাত এর সময়েও গুরুদায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনিই।

শুধু তাই নয়, আমেরিকা র সঙ্গে পরমাণু চুক্তির সময় ২০০৫ সালে ভারতের যে টিম কাজ করেছিল তার অন্যতম সদস্য ছিলেন জয়শঙ্কর। দু বছর পর ২০০৭ সালে মনমোহন সিংয়ের জমানায় সেই চুক্তি সম্পন্ন হয়। ১৯৭৭ ব্যাচের অফিসার তিনি। ২০১৩ তে তাঁকেই বিদেশসচিব হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিল মনমোহন সিংয়ের। কিন্তু অন্যান্য নেতাদের পরামর্শে সিনিয়র হিসেবে সুজাতা সিং কেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।

চাকরির প্রথম দিকে রাশিয়ায় ছিলেন জয়শঙ্কর। এরপর টোকিও সহ ইউরোপের একাধিক রাজধানী শহরে কাজ করেছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার ভারতীয় পিস কিপিং ফোর্সের পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার ও সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ২০১৮ তে অবসরের পর তিনি টাটা গ্রুপের গ্লোবাল করপোরেট আফেয়ার্সের প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্ব নেন। উল্লেখ্য এবার মন্ত্রিসভায় থাকছেন না সুষমা স্বরাজ। এর আগে তিনিই ছিলেন বিদেশমন্ত্রী। তাই এবার সেই জায়গায় জয়শঙ্কর কে দায়িত্ব দেওয়া হতে বলে মনে করা হচ্ছে।