প্রতীতি ঘোষ, বনগাঁ: কথায় বলে ‘মাছে ভাতে বাঙালী’। মাছ ছাড়া বাঙালির চলে না। আর এই বাঙালির পাতে যদি একটু জলের রুপালি ফসল না পড়ে তাহলে কি আর চলে?

তবে এবার ইলিশ প্রিয় ভোজনরসিক বাঙালীদের জন্য রয়েছে সুখবর। ভাদ্রের শেষ লগ্নে শারোদৎসবের আগে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে পদ্মার ইলিশ এসে পৌঁছেছে বাংলায়। যারফলে এবার দুর্গা পুজোয় বাঙালি বাড়িতে জমে উঠবে পদ্মার ইলিশের জমজমাটি নানা পদের রান্নায়।

বিগত ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল l এরপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ সাত বছর। সম্পর্কের বরফ গলেছে দুই দেশের। এরপর ২০১৮ সালে বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো উপলক্ষে ৫০০ টন ইলিশ পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার l গত বছর ও বাংলাতে এসেছিল পদ্মার ইলিশ।আবার এক বছর পর ফের পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলায় এসে পৌঁছলো আমবাঙালির পছন্দের পদ্মার ইলিশ।

এবছরও হাসিনার সরকার ১৫০০ টন ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আগেই। সেই মতোই সোমবার রাতে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে ইলিশ বোঝাই দুটি ট্রাক। আপাতত দুটি ট্রাকে করে ১২ টন ইলিশ এসেছে ভারতে এই পদ্মার ইলিশ পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে চলে যাবে শিয়ালদহ, হাওরা,পাতিপুকুর বাজার সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাজারগুলিতে।

আগামী দিনে বাঙালির পাতে আরও পদ্মার ইলিশ পড়বে এ আশা করাই যায়। পুজো পর্যন্ত নিয়মিত বাংলাদেশ সরকার রাজ্যে ইলিশ পাঠাবে বলে সূত্রের খবর। সোমবার সকালেই ইলিশ ঢোকার কথা থাকলেও বিভিন্ন সরকারি নিয়মকানুনের জেরে বাংলাদেশের ইলিশ ভারতে আসতে আসতে বেশ রাত হয়ে যায়। তবে দেরি হলেও এক বছরের অপেক্ষার অবসান করে বাংলায় পদ্মার ইলিশ ভারতের বাজারে আসায় খুশি মাছ ব্যবসায়ী থেকে আমজনতা।

এদিকে সোমবার বিকেল থেকে যে ইলিশ আসা শুরু হয়েছে তা ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রফতানি করা হবে বলে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সোমবার পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে মোট চারটি লরিতে ১২ টন ইলিশ ঢুকেছে। এর ফলে মঙ্গলবার বিকেল বা বুধবার সকাল থেকে ইলিশ ক্রেতারা পাবেন। ৫০০ থেকে এক কেজি সাইজের ইলিশ এসেছে।

পাইকারি বাজারে ইলিশের দাম ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা। সেক্ষেত্রে খুচরো বাজারে এই দাম আরও কিছুটা বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।