ফ্ল্যাট কালচারে বোর হয়ে গিয়েছেন? বাড়ির সন্ধানে এখন? কিন্তু উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না? তাহলে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্যই৷ কোনও প্রোমোটার নয়, ভালো কোনও আর্কিটেক্টের কাছে যান৷ আপনার স্বপ্ননীড় বানিয়ে তুলতে সাহায্য করবে ওই আর্কিটেক্টই৷ শুধু আপনার চাহিদা মতো সবটা বলে দিন তাঁকে৷ বাকিটা নিয়ে আপনাকে আর ভাবতে হবে না৷ তিনিই যাবতীয় দায়িত্ব নিয়ে আপনার স্বপ্নের বাড়িটি হাতে তুলে দেবে৷

বদ্ধ ছোট ছোট ঘর৷ দু’টো হোক বা একটা৷ তাতেই যেন প্রাণ ওষ্ঠাগত৷ কিন্তু নিজেদের বাড়ির যেখানে খুশি ঘুরে বেড়ান, সিঁড়িতে বসুন বা ছাদে ঘুরে বেড়ান, যাই করুন না কেন সেখানে আপনাকে কেউ কিছু বলবেও না আর কেউ আপনাকে নিয়ে সমালোচনাও করবে না৷ কারণ সেটি আপনার নিজের বাড়ি৷ ধরুন আপনি কিছু জমি কিনে রেখেছেন৷ মনের কোণে একটাই বাসনা, নিজের মনের মতো একটা বাড়ি বানাবেন৷ যে বাড়িতে থাকবে আপনার রুচি ও স্বপ্নের প্রতিফলন৷ আর এই প্রতিফলন তৈরি করতে গেলে আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে কোনও ভালোমানের আর্কিটেক্টকে৷ অর্থাৎ, এক কথায় পেশাদার আর্কিটেক্ট৷

কিন্তু তাঁরা কি সময় দেবেন আপনাকে? কারণ, পেশাদার স্থপতিরা প্রত্যেকেই শহর এবং শহরতলিতে প্রতিনিয়ত গজিয়ে ওঠা মাল্টিস্টোরিড অ্যাপার্টমেন্ট ডিজাইনিংয়ে এত ব্যস্ত, যে মাত্র কাঠা দু’য়েক জমির ওপর ছোট্ট একটা বাড়ি তৈরির মতো সামান্য কাজে নিজেদের নিয়োজিত করবেন কিনা এটাই আপনার সন্দেহ৷ বেশ কিছু পেশাদার স্থপতির সঙ্গে কথা বলে অন্তত এটুকু বুঝতে পারা গিয়েছে, যে তাঁরা অত্যন্ত সাগ্রহে এই ধরনের অ্যাসাইনমেন্ট নিতে প্রস্তুত৷

এর কারণ দু’টো৷ প্রথম কারণ, রোজ শয়ে শয়ে যে-ধরনের বহুতল আবাসন তৈরি হয়ে চলেছে, সেখানে তিন বা দুই বেডরুম বিশিষ্ট ফ্ল্যাটের ডিজাইনে বিবিধ ভ্যারিয়েশন আনা প্রায় দুঃসাধ্য৷ ফলে, নতুন কোনও চিন্তা-ভাবনা তাঁরা করতেই পারছেন না৷ তাই, বৈচিত্র্য আনতে হচ্ছে কেবলমাত্র বহিরঙ্গে, তাঁদের ভাষায় ‘এক্সটিরিয়র এলিভেশন’-এ৷ এতে অর্থ উপার্জন হলেও, তাঁদের মনের খিদেটা মেটে না৷

দ্বিতীয় কারণ, একটু মুখ বদল৷ ভালো করে যাচাই করে নেওয়া নিজের শৈল্পিক বোধ এখনও ততটা জোরদার কিনা৷ কারণ, একজন স্থপতি শুধু যে বাড়ির কাঠামোগত দিকটাই দেখেন তা তো নয়, তাঁকে ব্লেন্ড করতে হয় ক্রেতার ব্যক্তিগত চাহিদা এবং শিল্পকে৷ এই ব্লেন্ডিং বা মিশ্রণের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ অদৃশ্য বহুতল বাড়ির ক্ষেত্রে৷ সেখানে ক্রেতাকে বাধ্য হয়ে নিতে হয় ছাঁচে ফেলা ফ্ল্যাটের কাঠামো৷ যেখানে রামবাবু-শ্যামবাবুর বাড়ির চেহারায় কোনও ফারাক নেই৷ ক্রেতার ব্যক্তিগত চাহিদা সেখানে অনুপস্থিত থাকে৷

 

কিন্তু যেহেতু আপনি রামবাবু, আপনার ব্যক্তিগত একটা চাহিদাও আছে এবং আপনি চান না কিছুতেই আপনার বাড়িটা হুবহু শ্যামবাবুর মতো হোক, তাই আপনার দরকার একজন স্থপতি৷ যিনি তাঁর শিল্পবোধ দিয়ে আপনার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করবেন৷ কিন্তু স্থপতির কাছে যাওয়ার আগে কিছুটা প্রস্তুতি আপনাকে নিতেই হবে৷ কারণ প্রস্তুত না-হয়ে গেলে আপনার স্বপ্নের বাড়িটি আর স্বপ্নপুরীর রূপ ধারণ করবে না। এই কারণেই আপনি ঠিক কী চাইছেন, সেটা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্থপতিকে জানানো দরকার। আপনার চাওয়া-পাওয়াগুলো ঠিক মতো স্থপতি বুঝতে পারলে তবেই তিনি সেই মতো পরিকল্পনা করে এগোতে পারবেন স্বপ্ননীড় তৈরির পথে।

চাওয়া পাওয়া ১. বাড়ি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা হুবহু কী সেটা জানতে চাইবেন স্থপতি। ২. প্রয়োজনে এই পরিকল্পনা পুরোটাই লিখে নিয়ে যান। ৩. আপনার বাজেট কত, এটাও জানতে চাইবেন স্থপতি। ৪. প্রয়োজনে কতদূর পর্যন্ত যেতে পারেন আপনি, তার একটা হদিশও দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ৫. কেন ফ্ল্যাট নয়, বাড়ি, সেটা আপনার কাছে পরিষ্কার থাকা দরকার।হবে৷