শ্রীনগর : কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির মেরুদন্ড ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে ভারতীয় সেনা ও জম্মু কাশ্মীর পুলিশ। এরই সাথে সাফল্য এসেছে আধা সামরিক বাহিনীর হাত ধরেও। চলতি ২০২০ সালে দু ডজনেরও বেশি জঙ্গি কমান্ডারকে খতম করতে সফল হয়েছে যৌথবাহিনী। চলতি বছরের আটমাস পূর্ণ হতে বাকি রয়েছে বেশ কয়েকটা দিন। তার আগেই এমন ঘোষণা জম্মু কাশ্মীর পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল দিলবাগ সিংয়ের।

এই সংখ্যাকে সেনার বিরাট সাফল্য বলে ব্যাখ্যা করে দিলবাগ সিং বলেন প্রতিদিন অপারেশন চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। সেনার লক্ষ্য কাশ্মীরিদের যুব সম্প্রদায়কে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়া থেকে বিরত করা। সেই লক্ষ্যেও সফলতা এসেছে বলে জানিয়েছেন ডিজি।এদিন তিনি বলেন ২০২০ সালে কাশ্মীরিদের সাথে প্রত্যক্ষ সন্ত্রাসের যোগের হার কমেছে উল্লেখজনক ভাবে।

উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলার হান্ডওয়াড়াতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডিজি বলেন কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার পর থেকেই পাকিস্তান থেকে কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ বা কাশ্মীরিদের জঙ্গি সংগঠনে যোগদানের হার কমেছে।

২০২০ সালে ১৬ জন কাশ্মীরি যুবককে জঙ্গি সংগঠন থেকে বের করে এনে জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনেছে সেনা। তাঁদের উদাহরণ সামনে রেখেই কাশ্মীরের অন্যান্য যুবকদের বোঝানোর কাজ করছে সেনা, যাতে কোনওভাবেই তাঁরা জঙ্গি সংগঠনে যোগ না দেয়।

এদিন কাশ্মীর থেকে ১০ হাজার আধা সামরিক তুলে নেওয়ার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সমর্থনে তিনি বলেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল। এখন আগের তুলনায় কাশ্মীরের জনজীবন অনেকটাই স্বাভাবিক। ফলে অহেতুক বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন ফুরিয়েছে।

এর আগে ডিজি জানিয়ে ছিলেন, ক্রমাগত ভারতীয় সেনার সন্ত্রাসদমন অভিযান, একের পর এক জঙ্গি নেতাকে নিকেশের জন্যই এই সাফল্য এসেছে। এরই সঙ্গে রয়েছে কড়া পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে বছরের শুরুতে যেখানে ৩৫০-৪০০ জঙ্গি সক্রিয় ছিল উপত্যকায়, সেই সংখ্যা কমে ২০০তে দাঁড়িয়েছে।

ডিজিপির বক্তব্য ২০১৯ সালে জুলাই পর্যন্ত খতম করা হয়েছিল ১৩১ জন জঙ্গিকে। কিন্তু জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নিকেশ করা হয় মাত্র ২৯জনকে। সেই মুহুর্তে জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা দিকে নজর দেওয়ার দরকার ছিল। তবে ২০১৯ সালে ৬৭টি অপারেশন চালিয়ে ১৬০ জন জঙ্গিকে মারা সম্ভব হয়েছিল।

পুলিশের হিসেব বলছে ২০১৯ সালে পাঁচ হাজারেরও বেশি বার এলাকা কর্ডন করে তল্লাশি চালানো হয়েছে। ২০২০ সালে এখনও পর্যন্ত ১৫০জন জঙ্গিকে নিকেশ করা গিয়েছে। ১৫০ জন জঙ্গির মধ্যে ৩০ জন বহিরাগত ও ১২০ জন স্থানীয় বাসিন্দা। এর মধ্যে রয়েছে ৩৯জন টপ কমান্ডার।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।