নয়াদিল্লি: প্রতারণার শিকার দেশের একাধিক ব্যাংক। গত ১১ বছরে আ সবধেকে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রিজার্ভ ব্যাংক যে পরিসংখ্যান দিল, তা সত্যিই চমকে যাওয়ার মত।

শুধু আর্থিক প্রতারণার জন্য গত ১১ বছরে দেশের ব্যাংকগুলির ক্ষতি হয়েছে ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে আইসিআইসিআই, স্টেট ব্যাংক ও এইচডিএফসি-র।

সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রিপোর্টে জানিয়েছে, এই ১১ বছরে ৫০,০০০০ প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকে প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকার ব্যাংক প্রতারণায় অন্যতম অভিযুক্ত হীরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী, মেহুল চোকসিরা এখন দেশের বাইরে। লন্ডনে আছেন বিজয় মালিয়া, তাঁর ঋণের পরিমান ৯০০০ কোটি।

নীরব ও মেহুল, দু’জনেই দেশ ছাড়ার ঘটনায় প্রথম মোদী সরকারকে আক্রমণ করেছিল কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। বিজেপির পাল্টা দাবি ছিল, ইউপিএ আমলেই তাঁদের ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছিল। সম্প্রতি গত অর্থবর্ষের তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পরে ব্যাংকিং প্রতারণার নিয়ে কেন্দ্রের কাছে শ্বেতপত্র প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছিল কংগ্রেস।

এই প্রেক্ষাপটে আরবিআইয়ের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০০৮-০৯ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষ পর্যন্ত দেশে ক্রমশ বেড়েছে ব্যাংক প্রতারণার ঘটনা। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে টাকার পরিমাণও। ২০০৮-০৯ সালে যা ১,৮৬০ কোটি টাকা ছিল। ২০১৮-১৯ সালে তা-ই দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার কোটির বেশি।

রিপোর্ট বলছে, ওই সময়ের মধ্যে টাকার অঙ্কে কম হলেও সবচেয়ে বেশি প্রতারণা ঘটেছে বেসরকারি আইসিআইসিআই ব্যাাকে। এই ব্যাংকে ঋণখেলাপির ঘটনা ঘটেছে মোট ৬৮১১টি। অন্যদিকে, পিএনবি-তে ২,০৪৭টি ঘটনায় প্রতারণা হয়েছে মোট ২৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। টাকার অঙ্কে যা সবক’টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বাধিক।

এর পরেই রয়েছে স্টেট ব্যাংক। সেখানে ২৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রতারণা হয়েছে ৬,৭৯৩টি ঘটনায়। দু’টি ক্ষেত্রেই যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া, ১০,০০০ কোটি টাকার বেশি প্রতারণা হয়েছে যেসব ব্যাংকে, সেগুলি হল- ব্যাংক অব বরোদা (১২,৯৬২ কোটি টাকা), ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (১২,৩৫৮ কোটি টাকা), ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক (১২,৬৪৪ কোটি টাকা), ইউনিয়ন ব্যাংক (১১,৮৩০ কোটি টাকা)।

শুধু ভারতীয় ব্যাংকই নয়, এখানে ব্যবসা করা বিদেশি ব্যাংকগুলির ক্ষেত্রেও এই সময়ে প্রতারণার ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছে আরবিআই। যাদের মধ্যে রয়েছে সিটি ব্যাাংক, এইচএসবিসি, আমেরিকান এক্সপ্রেস ইত্যাদি।