লোকসভা কেন্দ্র: দার্জিলিং

২০১৪ সালের নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের এই লোকসভা কেন্দ্রটি বিজেপির দখলে গিয়েছিল৷ বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া জয়ী হয়েছিলেন৷

১৯’এর নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম:

তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী: অমর সিং রাই

কংগ্রেস প্রার্থী: শংকর মালাকার

বামফ্রন্ট প্রার্থী: সমন পাঠক

বিজেপি প্রার্থী: রাজু বিসতা

দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা: ১,৬০০,৫৬৪

এই কেন্দ্রের অধীনে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র:

কালিম্পং, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মাটিগাড়া-নক্সালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া, চোপরা

কালিম্পং: এই বিধানসভা কেন্দ্রে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রার্থী সরিতা রাই ৬৭,৬৯৩ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ নির্দল প্রার্থী হিসেবে ৫৬,২৬২ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন হরকা বাহাদুর ছেত্রী৷ তৃতীয় স্থানে আরও এক নির্দল প্রার্থী কিশোর প্রধান ছিলেন৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫,৭১৪ হাজার৷

দল-    প্রাপ্ত ভোট
গোর্খা-  জনমুক্তি মোর্চা ৬৭,৬৯৩
নির্দল-  ৫৬,২৬২
নির্দল-  ৫,৭১৪

দার্জিলিং: এই কেন্দ্রে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রার্থী অমর সিং রাই ৯৫,৩৮৬ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সারদা রাই সুব্বা ৪৫,৪৭৩ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন৷ তৃতীয় স্থানে ছিলেন নির্দল প্রার্থী গোবিন্দ ছেত্রী৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৮,৯৮২ হাজার৷

দল-    প্রাপ্ত ভোট
গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা- ৯৫,৩৮৬
তৃণমূল- কংগ্রেস ৪৫,৪৭৩
নির্দল-   ৮,৯৮২

কার্শিয়াং: এই বিধানসভা কেন্দ্রে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রার্থী ৮৬,৯৪৭ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন৷ তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ৫৩,২২১ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন৷ তৃতীয় স্থানে ছিলেন নির্দল প্রার্থী অরুণ কুমার ঘাটানি৷ তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ১২,২১৯ হাজার৷

দল-    প্রাপ্ত ভোট
গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা– ৮৬,৯৪৭
তৃণমূল- কংগ্রেস ৫৩,২২১
নির্দল-  ১২,২১৯

মাটিগাড়া-নক্সালবাড়ি: এই বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী শংকর মালাকার ৮৬,৪৪১ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অমর সিনহা পেয়েছিলেন ৬৭,৮১৪ হাজার ভোট৷তৃতীয় স্থানে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী আনন্দময় বর্মণ৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৪৪,৬২৫ হাজার৷

দল-  প্রাপ্ত ভোট
কংগ্রেস – ৮৬,৪৪১
তৃণমূল কংগ্রেস- ৬৭,৮১৪
বিজেপি- ৪৪,৬২৫

শিলিগুড়ি: এই বিধানসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্ট প্রার্থী অশোক ভট্টাচার্য ৭৮,০৫৪ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন৷ দ্বিতীয় হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বাইচুং ভুটিয়া৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৬৩,৯৮২ হাজার৷বিজেপি প্রার্থী গীতা চট্টোপাধ্যায় পেয়েছেন ১৯,৩০০ হাজার ভোট৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
বামফ্রন্ট- ৭৮,০৫৪
তৃণমূল কংগ্রেস- ৬৩,৯৮২
বিজেপি- ১৯,৩০০

ফাঁসিদেওয়া: এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী সুনীল চন্দ্র তিরকে ৭৩,১৫৮ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ তৃণমূল কংগ্রেসের কার্লোস লাক্রা ৬৬,০৮৪ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷বিজেপি প্রার্থী দূর্গা মুর্মু ৩২,৮৯৪ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
কংগ্রেস- ৭৩,১৫৮
তৃণমূল কংগ্রেস- ৬৬,০৮৪
বিজেপি- ৩২,৮৯৪

চোপরা: এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হামিদুর রহমান ৭৪,৩৯০ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷বামফ্রন্ট প্রার্থী আক্রামূল হক পেয়েছিলেন ৫৭,৫৩০ হাজার ভোট৷ বিজেপি প্রার্থী সাজেন রাম সিনহা পেয়েছিলেন ১৫, ৮১৭ হাজার ভোট৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস- ৭৪,৩৯০
বামফ্রন্ট- ৫৭,৫৩০
বিজেপি- ১৫, ৮১৭

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই সাতটি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি আসনই গিয়েছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দখলে৷ বাকি চারটের মধ্যে দুটি আসন পেয়েছে কংগ্রেস, একটি বামেরা ও একটি তৃণমূল৷ উল্লেখ্য, এই বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস নিজেদের মধ্যে আসন সমঝোতা করে লড়াই করেছিল৷ তাই বাম ও কংগ্রেস যে আসনে যতটা ভোট পেয়েছে সেটা দুই দলের মিলিত ভোট৷ যদি বাম-কংগ্রেস আলাদা লড়াই করত তাহলে এই ভোট ভাগ হত৷এবার দুই দলই এককভাবে লড়াই করছে৷

তবে যদি এই সাতটি বিধানসভা মিলিয়ে প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের এককভাবে মোট প্রাপ্ত ভোট হিসেব করা হয় তাহলে দেখা যাবে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা তিনিটি আসনে লড়াই করে পেয়েছে( ৬৭,৬৯৩+৯৫,৩৮৬+৮৬,৪৪১ )=২,৪৯,৫২০ হাজার ভোট৷ তৃণমূল কংগ্রেস ছয়টি আসনে লড়াই করে পেয়েছে পেয়েছে(৪৫,৪৭৩+ ৫৩,২২১+ ৬৭,৮১৪+ ৬৩,৯৮২+৬৬,০৮৪+৭৪,৩৯০)= ৩,৭০,৯৬৪ হাজার ভোট৷ কংগ্রেস পেয়েছে( ৮৬,৪৪১+৭৩,১৫৮ )=১,৫৯,৫৯৯ হাজার ভোট৷ বামফ্রন্ট পেয়েছে(৭৮,০৫৪+ ৫৭,৫৩০)=১,৩৫,৫৮৪ হাজার ভোট৷বিজেপির মোট প্রাপ্ত ভোট( ৪৪,৬২৫+১৯,৩০০+ ৩২,৮৯৪+১৫, ৮১৭ )=১,১২,৬৩৬ হাজার ভোট৷

তবে পাহাড়ের রাজনীতিতে বলা হয়, গোর্খাদের সমর্থন যাঁদের দিকে থাকবে তাঁরাই জিতবে৷ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার তৎকালীন প্রধান বিমল গুরুং-য়ের সমর্থনে সেবার বিজেপি আসনটি জিতেছিল৷ কিন্তু এবার পাহাড়ের পরিস্থিতি বদলেছে৷ বিমল গুরুং ফেরার৷ মোর্চা প্রধান বিনয় তামাং-এর সমর্থন তৃণমূলের দিকে৷ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা অমর সিং রাই এবার তৃণমূলের প্রতীকে লড়ছেন৷ যদিও বিমল গুরুংয়ের টিমের সমর্থন বিজেপির দিকেই। তাই গেরুয়া শিবিরও এবার এই আসন জেতার ব্যাপারে নিশ্চিত। একইসঙ্গে বাম-কংগ্রেসও জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।