নয়াদিল্লি: মাত্র ১০টি যুগ্ম সচিব পদের জন্য বেসরকারি ক্ষেত্র থেকে ৬০০০ বেশি প্রার্থী আবেদন করল ৷ সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা থেকে চুক্তিভিত্তিতে সরকারি আমলা নিযুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে মোদী সরকার৷ এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়৷ এই পদে আবেদন করার শেষ দিন ছিল ৩০ জুলাই৷৷ তাতে সাড়া দিয়ে ৬০৭৭ জন আবেদন করেন৷ তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ করা হবে৷ তবে ভাল কাজ করলে সেক্ষেত্রে মেয়াদ আরও দুবছর বাড়ান হতে পারে৷ কাজে দক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ৪০ বছর অথবা তাঁর বেশি বয়েসের ব্যক্তি আবেদন করতে বলা হয়৷

আরও পড়ুন- বেসরকারি সংস্থা থেকে চুক্তিভিত্তিতে সরকারি আমলা

প্রথা অনুসারে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যাঁরা আইএএস হন তারাই পরবর্তীকালে পদোন্নতির ফলে সচিব পর্যায়ে উন্নীত হন। দেখা যায় পদস্থ আমলারা বিভিন্ন প্রকল্প উদ্ভাবন ও রূপায়ণের দায়িত্বে থাকেন। এই সব কর্ম সম্পাদনের জন্য কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিশেষ প্রশিক্ষণেরও দরকার হয়।সেই রকম গুরুত্বপূর্ণ পদে এবার বেসরকারি সংস্থার দক্ষ কর্মীদের কাজে লাগাতে চাইছে সরকার৷ রাজস্ব, ইকনোমিক সার্ভিস, ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, পরিবেশ, কৃষি, বাণিজ্য, বিমান, সড়ক-সহ বেশ কিছু দফতরে এই নিয়োগ করা হবে।

আরও পড়ুন: ভারতীয় অর্থনীতিতে ধাক্কা দিতে বাতিল নোট কিনছে আইএসআই

অবশ্য এই নতুন ধারায় আমলা নিয়োগের সময় শুধুমাত্র বেসরকারি ক্ষেত্রের ব্যক্তিরাই আবেদন করতে পারবেন এমন নয়। পাশাপাশি আবেদন করতে পারবেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিরাও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিরা যদি তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উপযুক্ত অভিজ্ঞতা থাকে৷ নীতি আয়োগ জানিয়েছিল ২০১৭-২০২০ পর্যন্ত তারা নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ‘সংস্কার’ আনতে চায় কারণ লক্ষ্য হল, সরকারি পরিচালনায় কিছু বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগান। ইতিমধ্যেই কোনও কোনও ক্ষেত্রে এমন বিশেষজ্ঞের নিয়োগ করা হয়েছে। যেমন প্রসার ভারতী, নীতি আয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে। যদিও এমন সিদ্ধান্ত ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: ১৮-তেও চিনকে ছাপিয়ে বিশ্বের সবথেকে উন্নয়নশীল অর্থনীতি ভারতের

লোকসভায় এক লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, দুটি উদ্দেশ্যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা হল- নতুন প্রতিভা এবং জনবলের প্রাপ্যতা বৃদ্ধির জন্য৷

তাছাড়া এমন পদক্ষেপ নতুন কিছু নয়৷ এর আগেও তা করা হয়েছে৷ যেমন এমন পদ্ধতিতেই আগে মনমোহন সিং , মন্টেক সিং আলুআলিয়া, বিমল জালান, শংকর আচারিয়া, বিজয় কেলকার, রাকেশ মোহন, অরবিন্দ ভিরমানি, অরবিন্দ পানাগারিয়া ,অরবিন্দ সুব্রমণিয়ান, পরমেশ্বর আয়ার, রাম বিনয় শাহি প্রমুখ৷