গুয়াহাটি: একে করোনায় রক্ষা নেই। তার উপর দোসর বন্যা। এই দুইয়ের চাপে পড়ে বর্তমানে কার্যত নাভিশ্বাস ওঠার জোগার সোনেয়াল সরকারের।

গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে জেরবার হয়ে পড়েছে অসম ও পার্শ্ববর্তী রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ। যারফলে এই দুই রাজ্যের বেশকিছু জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জন জীবনও।

রবিবার অসমের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তরফে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, অসম রাজ্যের ৩১ টি জেলার প্রায় ১৩ লাখ মানুষ বন্যা কবলিত। বন্যার কারণে এখনও পর‍্যন্ত মোট ৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

অসমে বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ২১,০০০ মানুষ। তাঁদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, অসমের সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত মোট ১৬ টি জেলার মানুষদের আশ্রয় দিতে গড়ে তোলা হয়েছে ২২৪ টি ত্রাণ শিবির।শুধু তাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে বন্যার জলে তলিয়ে গিয়েছে ৮২,৫০০ হেক্টরেরও বেশি চাষের জমি।

এদিকে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে রবিবারই সব মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন,রাজ্যের পানিসম্পদ মন্ত্রী কেশব মহন্ত এবং অন্যান্য উর্ধ্বতন আধিকারিকরা।

এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সকল সংসদ সদস্য এবং বিধায়কদের নিজ নিজ এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের সাহায্য এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধগুলি মেরামতির নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

রবিবার আইএমডি’র দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, অসম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যে ১২ জুলাই থেকে 1১৬ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বজ্রপাত সহ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বেশ কয়েকটি জায়গায়।

কেন্দ্রীয় জল কমিশন (সিডব্লিউসি) সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে অরুণাচল প্রদেশের ব্রহ্মপুত্র, পুঠিমারি, কোপিলি, জিয়া ভরালি, পাগলদিয়া, বুড়িদিহিং, সংকোষ, ধানসিঁড়ি ও সিয়াং সহ অসমের বেশ কয়েকটি নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইবে।

এদিকে অসমের কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা এবং ৪৩০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বাঘ রিজার্ভ কেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে। বন্যার জলের ফলে বনকর্মীদের জন্য ব্যবহৃত পার্কের ভিতরে থাকা ২২৩ টি শিবিরের মধ্যে ১২৫ টি জলের তলায় ডুবে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শুধু তাই নয়, চলতি বছর এই কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের মোট ৪১ টি পশু মারা গিয়েছে। তাদের বেশ কয়েকটি গন্ডার রয়েছে। এদের মধ্যে ৯ টি গন্ডার জলে ডুবে মারা গিয়েছে এবং ৮টি গন্ডার পার্শ্ববর্তী রেল লাইন পার হতে গিয়ে ট্রেনে চাপা পড়ে মারা গিয়েছে।

এছাড়াও প্রবল বর্ষনে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসমের পার্শ্ববর্তী রাজ্য অরুণাচল প্রদেশও। এই রাজ্যের ছাংলাই এবং লামসু জেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে নদী গুলির জল। যেকোনও ধরনের বিপর্যয় এড়াতে প্রশাসনের তরফে জারি করা হয়েছে সবরকম সর্তক বার্তা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ