লখনউ: কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানাকে কেন্দ্র করে মোদী সরকার ও রাজ্যের সংঘাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ৷ পুরুলিয়ার জনসভা থেকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মমতা সরকারকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন৷ কিন্তু এবার নিজের রাজ্যেই বিপাকে পড়লেন যোগী৷ তাঁর সরকারের সঙ্গে সরকারি কর্মীদের সংঘাত এল প্রকাশ্যে৷

যোগী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠেছে সরকারি কর্মীরা৷ বুধবার থেকে রাজ্যের ৪০ লক্ষ সরকারি কর্মচারি ধর্মঘটে সামিল হতে চলেছে৷ এই ধর্মঘট চলবে এক সপ্তাহ৷ ফলে আগামী সাতদিন শিঁকেয় উঠবে সরকারি কাজকর্ম৷ ব্যাহত হবে পরিষেবা৷ যদিও রাজ্য সরকার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে সরকারি কর্মীদের৷ হুমকির সুরে জানিয়েছে, ধর্মঘটে সামিল হলে ভোগ করতে হতে পারে চরম শাস্তি৷ যদিও তাতে কান দেননি লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মীরা৷ নিজেদের সিদ্ধান্তে তাঁরা অটল৷

কেন যোগী সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মঘটে যাওয়ার রাস্তা বাছলেন সরকারি কর্মীরা? জানা গিয়েছে, নয়া পেনশন প্রকল্পই তাদের আপত্তির কারণ৷ সরকারি কর্মীরা চাইছেন পুরানো পেনশন স্কিম ফিরিয়ে আনুক সরকার৷ সেই সঙ্গে আরও একগুচ্ছ দাবি দাওয়া আছে তাদের৷ সরকারি কর্মচারীদের নানা সংগঠন এই ধর্মঘটকে সর্মথন জানিয়েছে৷ বুধবার থেকে রাজ্যের শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, পরিবহন ও সরকারি আধিকারিকরা এক সপ্তাহের জন্য ধর্মঘটে যাচ্ছেন৷

ফলে এই সাতদিন রাজ্যে এক অভূতপূর্ব সঙ্কট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ আর দোরগোড়ায় লোকসভা নির্বাচন৷ আর উত্তরপ্রদেশ হল ক্ষমতার ভরকেন্দ্র৷ সেই রাজ্যে ভোটের আগে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারির ধর্মঘটে যাওয়া বিজেপির পক্ষে মোটেই শুভদায়ক নয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ এদিকে কর্মচারিরা যাতে ধর্মঘটে সামিল না হয় তার জন্য এসমা জারি করেছে রাজ্যের মুখ্যসচিব অরূপ চন্দ্র পান্ডে৷ সোমবার রাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ধর্মঘটকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন৷