নয়াদিল্লি : বন্যায় ভাসছে দেশের একাংশ৷ বিধ্বস্ত কেরালা, ওড়িশা, কর্ণাটক৷ এরই মধ্যে আশঙ্কার কথা শোনাল জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর৷ তাদের মতে সারা দেশ জুড়ে আগামী বছর গুলোতে বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে৷ কারণ আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে বন্যা৷

এনডিআরএফ জানাচ্ছে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যাবেন বন্যায়৷ আগামী ১০ বছরের এই সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬ হাজারেরও বেশি৷ এই তথ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককেও জানানো হয়েছে৷ দেশের ৬৪০টি জেলায় সমীক্ষা চালিয়ে এমনই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে এনডিআরএফ৷

এর পাশাপাশি, এই সংস্থা জানিয়েছে আগামী দশ বছরে মৃত্যুর হার যেমন বাড়বে, তেমনই বাড়বে ক্ষতির পরিমাণ৷ যার মূল্য চোকাতে কেন্দ্রকে খরচ করতে হতে পারে ৪৭ হাজার কোটি টাকা৷

এরআগে, ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইন্সটিটিউশন নামে একটি সংস্থা জানিয়েছিল জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি বন্যার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণ। আর এর ফলে শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যই ছিয়াত্তর হাজার মানুষ ঝুঁকিতে আছে। প্রতি বছর শহর এলাকায় অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে একশ কোটি ইউরো।

বন্যা প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষতি তিন গুণে দাঁড়াবে। পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়৷ তবে পরিবেশবিদদের চিন্তা বাড়ান গোয়ার একদল পরিবেশ বিশেষজ্ঞ৷

ন্যাশনাল সেন্টার ফর আন্টার্কটিক অ্যান্ড ওশন রিসার্চ বা এনসিএওআরের বিজ্ঞানীরা বলছেন গত কয়েক দশ ধরে আন্টার্কটিকায় গলছে বিশাল আকারের দুটি হিমবাহ। হিমবাহের গলন ভারতের বর্ষায় নাকি প্রভাব ফেলছে৷ ১৯৭০ সাল থেকেই এই বরফ গলতে শুরু করেছে৷ এই বিজ্ঞানীদলের প্রধান মনীশ তিওয়ারি ও বিকাশ কুমার ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছেন৷ তাঁদের মতে শুধু জলস্তর বাড়াই উদ্বেগের কারণ নয়, গত কয়েক বছরে ভারতে বন্যা ক্রমশ ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে৷ তার অন্যতম কারণ আন্টার্কটিকার বরফের গলন৷

তাঁরা বলছেন যেভাবে একের পর এক নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে দেশের বায়ুমন্ডলে, তার কারণও এই হিমবাহের গলন৷ বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে একদিকে যেমন হিমবাহ গলতে শুরু করেছে। তার সঙ্গে মৌসুমী অক্ষরেখার অবস্থানও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা তৈরি করছে দেশে৷