মুম্বই: মঙ্গলবার প্রায় হাজার শ্রমিক রওনা দিলেন মুম্বই থেকে। তাদের গন্তব্য পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তরপ্রদেশ। এই শ্রমিকরা করোনা ভাইরাসের হটস্পট ধারাভি থেকে রাজ্যে ফিরছেন বলে খবর। ফলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা রাজ্যে এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শ্রমিকা স্পেশাল ট্রেনে করে ফিরছেন এঁরা। মুম্বইয়ের ধারাভি বস্তিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত শুধু ধারাভিতেই ১৬২১জন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার। সামাজিক দূরত্ব না মেনেই সেখান থেকে ১০০০ জন শ্রমিক রেল স্টেশনে পৌঁছন। সেখান থেকে ট্রেন ধরেছেন বলে খবর।

তবে শ্রমিকদের কাছে থাকা নথিপত্র দেখে ও তাদের শারীরিক পরীক্ষা করার পরেই তাদের ট্রেনে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর। এদিকে, এই ভীড় সামলাতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এই শ্রমিকরা জরি, প্লাস্টিক, চামড়া ও কাপড়ের কারখানায় কাজ করেন। লোকমান্য তিলক রেলওয়ে টার্মিনাস থেকে ট্রেন ধরেন তাঁরা।

এদিকে, জানা যাচ্ছে, গত ২৪ ঘন্টাতে মুম্বইতে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। এই পরিস্থিতিতে ফের মহারাষ্ট্র থেকে আসছে আরও ট্রেন। জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে আরও ৪১টি ট্রেন পাঠানোর কথা জানিয়েছিল মহারাষ্ট্র প্রশাসন। কিন্তু তা নাকচ করে দেয় মমতা সরকার। এরপর নবান্ন মাত্র ৩টে ট্রেন ঢোকার অনুমতি দিয়েছিল। তবে সমস্ত কিছু অগ্রাহ্য করার অভিযোগ মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে।

জানা যাচ্ছে, ৪১টি ট্রেন আজই মহারাষ্ট্র থেকে পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। এর ফলে আরও বিপদের মুখে বাংলাকে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দুই রাজ্যের সংঘাতের ইস্যুতে কেন্দ্র মাথা গোলাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

তবে রেলমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে যে, সঙ্কটের পরিস্থিতিতে ট্রেনগুলিকে বাতিল করা ঠিক নয়। এমনকি অন্য রুটে পাঠানোও সম্ভব নয়। তাতে যে সমস্ত পরিযায়ীরা ঘরে ফিরতে ইচ্ছুক তারা ধাক্কা খাবেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থ সকলের মাথায় রাখা উচিত বলেই মনে করছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে মহারাষ্ট্র এবং বাংলার মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে তা আলোচনার মাধ্যমে অবিলম্বে ফিরিয়ে নেওয়া উচিৎ বলে মনে করছে কেন্দ্র।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV