ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি ও গুয়াহাটি: লোকসভা নির্বাচনের আগে সর্বাধিক জ্বলন্ত ইস্যুগুলির একটি ছিল জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণের খসড়ায় ৪০ লক্ষ অসমবাসীর নাম বাতিল৷ এর জেরে প্রবল বিক্ষোভ ছড়ালেও তার প্রভাব পড়েনি ভোট যন্ত্রে৷ দ্বিতীয়বার বিপুল শক্তি নিয়ে কেন্দ্রে এনডিএ আসার পরেই ফের এনআরসিতে লক্ষাধিক মানুষকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করা হল৷

সর্বশেষ এনআরসি খসড়া তালিকায় অসমে ১.০২ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে৷ বুধবার এই তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে নতুন করে বিতর্ক দানা বাধছে৷ কারণ গত জুলাইতে প্রকাশিত তালিকায় এদের নাম ছিল। বিষয়টি নিয়ে লোকসভার অধিবেশনেও বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে পড়েছে মোদী সরকার৷ কিন্তু কেন্দ্রে ও অসমে একসঙ্গে ক্ষমতায় বিজেপি৷ আর বিরোধীদের সংখ্যা কম হওয়ায় এনআরসি বিরোধিতা তেমন দানা পাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে৷

গত এনআরসি তালিকা প্রকাশের পরেই প্রবল ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা লোকসভা নির্বাচনে এনআরসি ইস্যুকে হাতিয়ার করেন৷ কিন্তু নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গেই বিপুল শক্তি নিয়ে উঠে এসেছে৷ বিজেপির দাবি, বাংলায় ক্ষমতায় এলে অবৈধ বসবাসকারী বাংলাদেশিদের এনআরসি তালিকায় বাদ দেওয়া অন্যতম পদক্ষেপ৷ ফলে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গেও৷ চিন্তিত তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীও৷

স্বাধীনতার পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে বারে বারে অনুপ্রবেশ হয়েছে ভারতে৷ অসম-পশ্চিমবাংলা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যতেই এই ছবি পরিষ্কার৷ স্বাধীনতার পর অসমের নাগরিক তালিকা ১৯৫১ সালে সংশোধিত হয়৷ তারপর আর হয়নি। পরে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ তৈরি হয়৷ তার পরে বাংলাদেশ থেকেও অনুপ্রবেশ হয়েছে৷ তাদেরই চিহ্নিত করতেই নাগরিক পঞ্জিকরনের খসড়া তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে। নিয়মানুসারে যাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে, তাদের বাড়ির ঠিকানায় চিঠি দিয়ে সব জানানো হব। প্রত্যেকেই পুনর্বিবেচনার জন্য আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে এনআরসি কেন্দ্রে আবেদন করতে পারবেন৷