প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: প্রতিরক্ষা শিল্প কর্মচারীদের আন্দোলনের জেরে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটল কেন্দ্রীয় সরকার। যার জেরে দেশের ৪১ টা প্রতিরক্ষা শিল্প কারখানার শ্রমিকরাই একযোগে প্রত্যাহার করে নিল প্রতিরক্ষা শিল্প ধর্মঘট।

গত মঙ্গলবার থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিরক্ষা শিল্পকে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিরক্ষা শিল্প ধর্মঘটে শামিল হন প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় লক্ষাধিক কর্মী। দেশের ৪১ টি প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারখানাকে বেসরকারিকরনের প্রতিবাদে সরব হন কর্মীরা।

মঙ্গলবার থেকে দফায় দফায় কর্মচারী ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর শনিবার লিখিত বিবৃতি দিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা শিল্প সচিবের তরফ থেকে জানানো হয়, এখনই ভারতবর্ষের কোন প্রতিরক্ষা শিল্পের সাথে যুক্ত কারখানাকে বেসরকারিকরণ করার কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এরপরই এক যোগে ৪১ টি প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারখানা থেকেই তুলে নেওয়া হল প্রতিরক্ষা শিল্প ধর্মঘট । সোমবার সকাল থেকে কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকল শ্রমিকরা ।

প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ৩টি ফেডারেশন যৌথভাবে আন্দোলন শুরু করেছিল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিরক্ষা শিল্প নীতির বিরুদ্ধে। এই আন্দোলনে শামিল হয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টির শ্রমিক সংগঠন বি.এম.এস ও । শনিবার দুপুরে দেশের ৪১টি প্রতিরক্ষা শিল্প কারখানার সঙ্গেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হল উত্তর ২৪ পরগনার রাইফেল ও মেটাল কারখানা থেকেও ।

এই ২ কারখানার ৭৫০০ হাজার শ্রমিক আন্দোলনে শামিল হয়েছিল । “প্রতিরক্ষা শিল্প বাঁচাও কমিটি” তৈরী করে এই ২টি কারখানার সমস্ত শ্রমিক সংগঠন গুলি এক ছাতার তলায় এসে আন্দোলন শুরু করেছিল ।

প্রতিরক্ষা শিল্প ধর্মঘট প্রত্যাহার করে শ্রমিক নেতা দেবজ্যোতি বসু বলেন,”আমরা প্রতিরক্ষা শিল্প ধর্মঘট স্থগিত করছি একেবারে প্রত্যাহার করছি না । আগামীদিনে আমাদের উপরে ফের যদি কেন্দ্রীয় সরকার বেসরকারিকরণের আঘাত নামিয়ে আনে, আবার আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইতে নামব ।

ইছাপুর রাইফেল ও মেটাল ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা আন্দোলনে পিছু হটে না । বুক চিতিয়ে লড়াই করতে জানে । আগামীদনে যদি ১লক্ষ কোটি টাকারও ওয়ার্ক লোড দেওয়া হয় আমাদের, আমরা পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদন করে দেখিয়ে দেব ।” সোমবার থেকে ইছাপুর রাইফেল ও মেটাল ফ্যাক্টরির সমস্ত শ্রমিকরা পূর্ণ মাত্রায় এই কারখানার উৎপাদনে শামিল হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ।