বেঙ্গালুরু: পেশায় তিনি একজন কমলা লেবু বিক্রেতা। কিন্তু তাতে কী? তার কীর্তির মাধ্যমে তিনি ছুঁয়ে গেছেন সবার হৃদয়। আর তাঁর অসাধরণ কাজের জন্য এ বছর পদ্মশ্রীও পাচ্ছেন তিনি। কথা হচ্ছে, কর্ণাটকের ৬৮ বছরের কমলা লেবু বিক্রেতা হারেকালা হাজাব্বাকে নিয়ে।

লেবু বিক্রি করে দিনান্তে সামান্য কিছু টাকা রোজগার করেন তিনি। কিন্তু কথায় আছে, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। সেই ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করেই নিত্যদিন কিছু টাকা করে জমিয়ে তাঁর গ্রাম নিউপাদুতাতে স্কুল খুলেছেন এই লেবু বিক্রতা। ২০০০ সালের আগে হারেকালা হাজাব্বার গ্রামে কোনও স্কুল ছিল না। নিজের সামান্য রোজগারের টাকা জমিয়ে জমিয়েই স্কুল খোলেন তিনি।

এমনকি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় এক সময়ে স্কুলের জন্য জমি কিনতে নিজের জমানো টাকার পাশাপাশি ঋণও নিয়েছিলেন স্বল্প আয়ের এই মানুষটি। ঋণ নিয়েই তিনি তৈরি করেছিলেন স্কুল।

হাজ্জাবা হঠাৎ কেন এই স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিলেন? সে উত্তরও দিয়েছেন তিনি। দ্য নিউজ মিনিটকে হাজাব্বা জানিয়েছেন, বিদেশি এক দম্পতির কাছে ফল বিক্রি করতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি তার গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘ওই দম্পতি আমার কাছে কমলার দাম জিজ্ঞেস করেছিল, কিন্তু তখন আমি তা বুঝতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু আমি টুলু ও বিয়ারি ভাষা ছাড়া কিছুই বলতে পারতাম না। তখন ওই দম্পতি চলে যায়।”

হাজাব্বা সংবাদমাধ্যমকে জানান, সেদিন তাঁর খুব খারাপ লেগেছিল। তাঁর কথায়,” আমার গ্রামের শিশুদের যেন কোনোদিন এমন পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, তা আমি ভাবছিলাম। বুঝতে পেরেছিলাম, যোগাযোগ কীভাবে একজনকে জীবনে এগিয়ে যেতে এবং মানুষকে কাছাকাছি আনতে সাহায্য করে।’

হারেকালা হাজাব্বার জীবনের এই গল্প টুইটার ব্যবহারকারীদের মন জয় করে নিয়েছে বলে এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে উল্লিখিত রয়েছে। তিনিই এ পুরস্কারের উপযুক্ত ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেন এক টুইটার ব্যবহারকারী।