নয়াদিল্লি: বিদেশিদের কাশ্মীর ঘোরানোয় কেন্দ্রের উপর বেজায় চটেছে বিরোধীরা। প্রথমবারের পর এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৫ বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি পরিদর্শনে নিয়ে যায় কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপেরই কড়া সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিদেশিদের যদি কাশ্মীরে ঘোরার স্বাধীনতা থাকে, তবে দেশেরই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নেতাদের কাশ্মীরে যেতে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রকে তুলোধনা করেছেন বিরোধীরা।

ফের ২৫ জন বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি পরিদর্শনে নিয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নামিবিয়া, কিরঘিজ রিপাবলিক, বুলগেরিয়া, জার্মানি, তাজিকস্তান, ফ্রান্স, মেক্সিকো, ডেনমার্ক, ইতালি-সহ মোট ২৫ দেশের রাষ্ট্রদূত ভারতে এসেছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৫ বিদেশি রাষ্ট্রদূত বুধবারই কাশ্মীরে পৌঁছেছেন। মোদী সরকারের এই পদক্ষেপেরই সমালোচনায় সরব বিরোধীরা। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় দেশের বিরোধী দলগুলির নেতাদের ভূস্বর্গে যাওয়ায় বাধা দিচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উপত্যকা ঘোরাচ্ছে বিদেশিদের।

জম্মু ও কাশ্মীরে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছেন বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা। বুঝে নিতে চাইছেন কাশ্মীরবাসীর প্রত্যাশা। তাঁরা কী চাইছেন, কী প্রয়োজন, কী সমস্যা রয়েছে উপত্যকায়, সবই শুনছেন বিদেশি প্রতিনিধিরা। বিদেশি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করেন জম্মু কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতারাও। কাশ্মীরে কেন্দ্র দমন-পীড়নের নীতি চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তবে একইসঙ্গে এলাকায় শান্তির পরিবেশ প্রত্যেকেই তাঁরা চান বলেও দাবি করেছেন। এরই পাশাপাশি জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুখ আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতিদেরও দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন উপত্যকার রাজনৈতিক নেতারা। বিদেশি প্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলবেন বলে তাঁদের জানিয়েছেন।

এদিকে, ভূস্বর্গে বিদেশিদের সফর নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন কাশ্মীরের সিপিএম নেতা ইউসুফ তারিগামী। তিনি বলেন, ‘বিদেশি প্রতিনিধিদের কেন্দ্রই নিয়ে আসছে। অথচ দেশের বিরোধী নেতাদের কাশ্মীরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কী প্রমাণ করতে চাইছে সরকার?’

উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর এলাকার আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ আয়ত্তে রাখতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইন্টারনেট, কেবল টিভি পরিবেষা বন্ধ করা, কার্ফু জারি করা-সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ করেছে মোদী সরকার। অশান্তির আশঙ্কায় কাশ্মীরের বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমানে ভূস্বর্গের পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে দাবি করে কেন্দ্রীয় সরকার। বিশ্বের কাছেও একই বার্তা দিতে এর আগেও ১৫ জন বিদেশি প্রতিনিধিকে কাশ্মীরে নিয়ে গিয়েছিল মোদী সরকার।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

Tree-bute: রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও