নয়াদিল্লি: সোমবারই এনসিপিকে ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারি। সেই মত সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল মঙ্গলবার সন্ধে সাড়ে আটটায়। কিন্তু, তার ঘণ্টা দুয়েক আগেই তড়িঘড়ি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করলেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল। এই ঘটনার পরই সরব হন বিরোধীরা। সংবিধানের উপর হামলা বলে উল্লেখ করলেন সীতারাম ইয়েচুরি।

এই রাষ্ট্রপতি শাসনকে ‘অসাংবিধানিক’ বলেই মনে করছেন বিরোধীরা। ট্যুইট করে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনায় সরব হয় প্রায় সমস্ত বিরোধী দলগুলি।

মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার কিছু পরেই সিপিআইএমের পলিট ব্যুরো সদস্য তথা সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ট্যুইটে লেখেন, ‘এনসিপির শরদ পাওয়ারকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল। তা অতিক্রম হওয়ার আগে কীভাবে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করলেন তিনি? এটা তো সংবিধানের হত্যা। ভারতীয় গণতন্ত্রের উপর আবারও তীব্র আঘাত হেনেছে মোদী সরকার। যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার নীতি, নিয়ম মানছে না তারা। এর আগে জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, গোয়া, মণিপুর এবং আরও অনেক রাজ্যে বার বার একই ঘটনা ঘটতে দেখেছি আমরা।’

রাষ্ট্রপতি শাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে কংগ্রেসও। কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় নিরুপম ট্যুইট করে লেখেন, ‘রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্ত তো আগেই নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাড়ে আটটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতেন রাজ্যপাল। উনি নিজেই তো এনসিপিকে এই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তাই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসাংবিধানিক।’

প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা রাজ্যপালকে ‘রাজনৈতিক এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ করেছেন। রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের কিছু পরেই ট্যুইট বার্তায় তিনি লেখেন, ‘মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সম্পূর্ণ বিজেপির এজেন্ট হিসাবে কাজ করলেন। এখন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় নিজেদের মধ্যে ঝামেলা মিটিয়ে ওই তিনটি দলের এগিয়ে আসা উচিত।’

বিজেপি থেকে শিবসেনা সরকার গড়তে দুই প্রধান দলই ব্যর্থ হওয়ায় মহারাষ্ট্রে তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে এনসিপিকে সরকার গড়তে সোমবারই রাজভবনে ডেকেছিলেন রাজ্যপাল। ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। আর এরপরেই সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এনসিপি। মঙ্গলবার সকালেই নিজের বাসভবন ১০ জনপথে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সোনিয়া গান্ধী। এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারও যোগাযোগ রাখছিলেন কংগ্রেসের সঙ্গে।

এর মাঝেই মঙ্গলবারই শিবসেনার সঞ্জয় রাউতের সঙ্গে দেখা করেন শরদ পাওয়ার। কিন্তু মারাঠা রাজনীতির এই চরম ক্লাইম্যাক্সে অন্তিম পর্ব নিজের মতো করে লিখলেন রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারি। এনসিপিকে দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমার আগেই রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করেন রাজ্যপাল। প্রস্তাব পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়, মন্ত্রিসভা সায় দিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসাবে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি সেখানে সই করতেই মহারাষ্ট্রে লাগু হয়ে যায় ৩৫৬ ধারা।

মহারাষ্ট্রে নির্বাচনী ফল বেরনোর ১৯ দিন বাদেও সরকার গড়তে পারেনি কোনও দলই। বিজেপি, শিবসেনা শেষে তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে এনসিপিকে সরকার গড়ার জন্য ২৪ঘণ্টার সময়সীমা দেন রাজ্যপাল। সেই মতই প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল এনসিপি। কিন্তু, বিকেলেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করেন রাজ্যপাল রাজ্যপাল ভগৎ সিংহ কেশিয়ারি। এর পরেই বিদেশ সফর বিলম্বিত করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে বৈঠকে রাষ্ট্রপতি শাসনের পক্ষে সায় দিয়ে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্য রাষ্ট্রপতি ভবনকে সুপারিশ করা হয়। কিছু ক্ষণের মধ্যেই তাতে সই করে দেন সেই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এরপরেই যবনিকা পতন ঘটে মারাঠা রাজনীতির সিংহাসনকে কেন্দ্র করে লড়াইয়ের। মহারাষ্ট্রে জারি হয় ৩৫৬ ধারা অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি শাসন।