কলকাতা: অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের পেশ করা রাজ্য বাজেট আদতে লোকদেখানো বলে তোপ দাগলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। একইসঙ্গে সোমবারের বাজেট পেশ করে রাজ্যবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করা হল বলেও এদিন অভিযোগ করেছেন সিপিএম বিধায়ক। ভোটের দিকে তাকিয়েই রাজ্যের বাজেট পেশ বলেও তোপ দেগেছেন সুজন চক্রবর্তী। রাজ্য বাজেটকে দিশাহীন বলে কটাক্ষ বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানের।

রাজ্য বাজেটে কল্পতরু অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। একাধিক ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব এবারের বাজেটে। ২০২১ সালের আগে শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। সামাজিক ক্ষেত্রে একাধিক সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর। যার মধ্যে অনত্যম বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা প্রদান কর্মসূচি। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য সুবিধা প্রদান রাজ্যের। শ্রমিকদের পিএফ-এর পুরো টাকাই এবার দেবে রাজ্য সরকার।

এর আগে পিএফ খাতে শ্রমিকদের দিতে হত ২৫ টাকা। রাজ্য সরকার পিএফ-এর খাতে দিত ৩০ টাকা। এখন থেকে শ্রমিকদের তাঁদের পিএফ-এর খাতে আর কোনও টাকাই দিতে হবে না। পিএফ-এর পুরো টাকাটাই রাজ্য সরকার দেবে। এর ফলে রাজ্যের দেড় কোটি পরিবার উপকৃত হবে বলে দাবি অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের।

শুধু পিএফ-এর টাকা দেওয়াই নয়। একইসঙ্গে নিখরচায় বিদ্যুৎ দেওয়ারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবারের রাজ্য বাজেটে। সোমবার বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের ঘোষণা, ‘বিপিএল তালিকাভুক্তদের যাঁদের ত্রৈমাসিক বিদ্যুতের খরচ ৭৫ ইউনিটের কম, তাঁদের বিদ্যুতের ফি সম্পূর্ণ মকুব করা হবে। এর ফলে রাজ্যের ১৩ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন বলে দাবি অর্থমন্ত্রীর।’

তৃণমূল সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট নিয়ে শাসকদলকে চাঁচাচোলা ভাষায় বিঁধেছে বাম-কংগ্রেস। রাজ্য বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বাজেটে নতুন কোনও দিশা নেই। রাজ্যের ঘাটতি নিয়েও বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বাজেটে বেতন পাওয়ার সমস্যা, পেনশন নিয়ে কোনও কথা বলা হল না। বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী যা দাবি করেছেন, বাস্তবের সঙ্গে সেই দাবির কোনও মিল নেই’।

অন্যদিকে, বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীও বাজেট নিয়ে কাঠগড়ায় তুলেছেন রাজ্য সরকারকে। সুজনের তোপ, ‘লোক দেখানো কথা বলা হয়েছে রাজ্য বাজেটে। রাজ্য সরকার প্রতারণার বাজেট পেশ করেছে। ভোটের কথা মাথায় রেখেই বাজেট পেশ করা হয়েছে।’

বাম-কংগ্রেসের পাশাপাশি এদিন রাজ্য বাজেটের কড়া সমালোচনা করেছে বিজেপিও। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘বাজেট পেশ করে কৃপণতার পরিচয় দিল রাজ্য সরকার। ৭৫ ইউনিট কেন ১৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের ফি মকুব করা যেত। ঘুষ দিয়ে ভোটে জেতা যাবে না। মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন।’